ঢাকাMonday , 31 October 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থাই সিংহাসনে প্রিন্সেস সিরিনধর্ন?

Link Copied!

kg-thomঅান্তর্জাতিক ডেস্ক : থাইল্যান্ডের মানুষ রাজ সিংহাসনে রাজপরিবারের কোন নারী সদস্যকে কি দেখতে পাবেন? এই নিয়ে চলছে ব্যাপক জল্পনা কল্পনা। থাই সিংহাসনে কোন নারীর অরোহণের নিয়ম নেই। কিন্তু তারপরও তৈরি হয়েছে এমনই সম্ভাবনা। রাজা ভুমিবল আদুলাদেজের দ্বিতীয় মেয়ে প্রিন্সেস মাহা চাকরি সিরিনধর্নের নাম ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। দেশের সমাজ ও রাজনীতিতে তার গ্রহণযোগ্যতা ও প্রভাব রয়েছে। রাজকন্যা হিসেবে তিনি বেশ জনপ্রিয় ও অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন।
রাজা ভুমিবল আদুলাদেজের মৃত্যুর পর সিংহাসনে আরোহণ করার কথা তার একমাত্র ছেলে মাহা ভাজিরালংকর্নের। ১৯৭২ সালে ২০ বছর বয়সে মাহা ভাজিরালংকর্নকে যুবরাজ ও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রাজা আদুলাদেজও জীবনের শেষদিকে দেশের পরবর্তী রাজা হিসেবে ছেলের নাম বলে গেছেন। যুবরাজ ভাজিরালংকর্নই থাই সিংহাসনের সাংবিধানিক উত্তরাধিকারী অর্থাৎ পরবর্তী রাজা। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাজা হিসেবে তার নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। আর এই বিষয়টিই প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে যে, শেষ পর্যন্ত যুবরাজ বসতে পারবেন সিংহাসনে ?
যুবরাজ ভাজিরালংকর্ন দেশে মোটেও জনপ্রিয় নন। পোশাক পরিচ্ছদ, বৈবাহিক জীবনে জটিলতা ও সম্পর্কজনিত কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাকে নিয়ে বিতর্কই বেশি। ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত ফুর্তিবাজ। বিয়ে করেছেন তিনটি। তৃতীয় স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। পোশাক পরিচ্ছদ নিয়েও তিনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। থাইল্যান্ডের মানুষের কাছে তিনি একজন ফাটকা ব্যক্তি ও প্লেবয় হিসেবে পরিচিত। তার কোন পরিচ্ছন্ন ইমেজ নেই। উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনের জন্য তিনি ব্যাপকভাবে সমালোচিতও। এমন একজন মানুষকে কেউই নিজেদের রাজা হিসেবে দেখতে চায় না।
অন্যদিকে ভাজিরালংকর্নের ছোট বোন প্রিন্সেস মাহা চাকরি সিরিনধর্নের চলাফেরায় ব্যক্তিত্বের ছাপ স্পষ্ট। দেশের মানুষ তাকেই সিংহাসনে দেখতে চায়। কিন্তু দেশের আইন অনুযায়ী সিংহাসনে কোন নারী বসতে পারেন না। তারপরও থাইল্যান্ডের উচ্চ শ্রেণির রাজনীতিকরা আশা করেছিলেন রাজা তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে সেই আইনকে পাশ কাটিয়ে প্রিন্সেসকে তার উত্তরাধিকারী মনোনীত করবেন। কিন্তু সেটা হয়নি। রাজা শেষ পর্যন্ত তার ছেলেকেই সিংহাসনের জন্য মনোনীত করেছেন।
রাজা ভুমিবল মারা যান গত ১৩ অক্টোবর। তার মৃত্যুর খবর ঘোষণা করার দুই ঘণ্টা পর আইনসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়। যুবরাজকে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন রাজা হিসেবে ঘোষণা করাই ছিলো এই অধিবেশনের উদ্দেশ্য। কিন্তু আইনসভার অধিবেশনের পর যুবরাজকে সিংহাসনে বসার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এদিকে পিতার মৃত্যুতে শোক পালন এবং সিংহাসনে আরোহনের প্রস্তুতির জন্য যুবরাজ এক বছর সময় চেয়েছেন। আর এতেই নতুন করে তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক সংকট। সাংবিধানিক উত্তরাধিকারী থাকা সত্ত্বেও সিংহাসন শূন্য পড়ে থাকায় দেশেবাসীর মনে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ ।
সেনাবাহিনীর সমর্থণপুষ্ট বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচা অবশ্য বলেছেন যথাযথভাবে যুবরাজই সিংহাসনে বসবেন। কিন্তু তারপরও বেশ জোড়ালোভাবেই শোনা যাচ্ছে প্রিন্সেসের নাম।
বর্তমানে রাজপ্রতিনিধি হিসেবে রাজকার্য দেখভাল করছেন থাইল্যান্ডের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রেম তিনসুলানন্দা। তিনি রাজা ভুমিবলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। তিনি রাজ উপদেষ্টা পরিষদ প্রিভি কাউন্সিলের প্রধান এবং ১৯৯৮ সাল থেকে এই দায়িত্ব পালন করছেন। একজন প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে সেনাবাহিনীতে তার প্রভাব এখনো বিদ্যমান। রাজপরিবারেও তার প্রভাব রয়েছে। তার সঙ্গে প্রিন্সেস মাহা চাকরি সিরিনধর্নের সম্পর্ক ভালো। বাবার বন্ধু ও সহচর হিসেবে প্রিন্সেস সিরিনধর্ন তাকে পিতৃতুল্য মনে করেন, অভিভাবক হিসেবে গণ্য করেন। প্রেম তিনসুলানন্দাও প্রিন্সেসকে নিজের কন্যার মতই দেখেন। এদিক দিয়েও প্রিন্সেসের সমর্থনের ঘাটতি নেই।
মাহা চাকরি সিরিনধর্ন দেশবাসীর কাছে প্রিন্সেস অ্যাঞ্জেল নামে পরিচিত। তার বয়স ৬১ এবং তিনি বিয়ে করেননি। তিনি শিক্ষা লাভ করেছেন থাইল্যান্ডের পেকিং বিশ্ববিদ্যালয়ে। রাজনীতি সচেতন প্রিন্সেস অ্যাঞ্জেল গত কয়েকবছরে দেশের অত্যন্ত প্রভাবশালী নারী হিসেবে আবির্ভূত হন। সামরিক বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে তার সম্পর্ক বরাবরই ভালো। বিশেষ করে সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে অনেক আগে থেকেই যুবরাজের পাশাপাশি তার নামও উচ্চারিত হওয়ার কারণে তার একটি গ্রহণযোগ্যতাও তৈরি হয়ে আছে।
প্রিন্সেস সিরিনধর্নের বড় বোন প্রিন্সেস উবলরত্ন রাজকন্যা একজন বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করায় সিংহাসনে বসার যোগ্যতা হারিয়েছেন। আইনি বিষয়টির বাইরে নজর দিলে এখন যুবরাজ ছাড়া সিংহাসনের উত্তরাধিকারী একমাত্র প্রিন্সেস মাহা চাকরি সিরিনধর্ন। আর আইনি বিষয়ে দেশের সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৭৪ সালে যে সাংবিধানিক সংশোধনী আনা হয়েছে তার একটি ধারার আওতায় রাজার বৈধ উত্তরাধিকারী কোন নারী সিংহাসন দাবি করতে পারেন এবং প্রিন্সেস সিরিনধর্নের সামনে সে সুযোগ রয়েছে। এদিকে অত্যন্ত প্রভাবশালী সামরিক ব্যক্তিত্ব অবসরপ্রাপ্ত এয়ার চিফ মার্শাল সিদ্ধি সাবেতসিলা বলেছেন, যুবরাজ তো মারাও যেতে পারেন। যে কোন কিছুই ঘটতে পারে এবং প্রিন্সেস সিরিনধর্ন সিংহাসনে আরোহন করতেও পারেন।
সুতরাং থাইল্যান্ডের রাজ সিংহাসনে শেষ পর্যন্ত কে বসবেন সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।