ঢাকাFriday , 23 September 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মুক্তিপণ আতঙ্কে সুন্দরবনের জেলেরা

Link Copied!

fishing-boat-sea-খুলনা প্রতিনিধি : সুন্দরবনজুড়ে বনদস্যুদের তাণ্ডব বেড়েই চলেছে। মূর্তিমান বেশ ধারণ করে দস্যুরা বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে মেতে উঠেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও জাহাঙ্গীর বাহিনী, রোকন বাহিনী, জোনাব বাহিনী, আকাশ বাহিনীসহ বিভিন্ন দস্যুদল পূর্ব ও পশ্চিম সুন্দরবনের জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় অব্যাহত রেখেছে। প্রতিদিন জেলে আটক রাখার খবর সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে দেড় শতাধিক জেলে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়ে ২০ লাখ টাকার বেশি মুক্তিপণ দিয়েছেন। যেসব জেলেদের পরিবার বনদস্যুদের চাহিদা অনুযায়ী মুক্তিপণ দিতে পারছে না তাদের আটক রেখে বনের ভেতরে নৌকা ও বোট চালানোর কাজে লাগানো হচ্ছে। বিকাশ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যে দিন মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ হবে তার পরদিন জেলেরা দস্যুদের কাছ থেকে ছাড় পেয়ে ফিরে আসেন।
জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশির আংটিহারা ও গোলখালি গ্রামের দুই জেলেকে বনদস্যুরা গত ৭ দিন ধরে সুন্দরবনে আটক রেখেছে। তাদের পরিবার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছে।
কয়রা সদরের দরিদ্র মমতাজ বেগম জানান, তার ছেলেসহ আরও ৮ জেলেকে জাহাঙ্গীর বাহিনী বনের মধ্যে আটক রেখেছিল। পরে মাথাপিছু ১২ হাজার টাকা হিসেবে মুক্তিপণ দিয়ে ৫ দিন পর তারা দস্যুদের কবল থেকে মুক্তি পান।
৬ নম্বর কয়রা গ্রামের বাগদা পোনা ব্যবসায়ী দেবব্রত ম-ল জানান, তাদের ১০ জন জেলেকে কয়েকদিন আগে বনদস্যুরা আটক রেখে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে। এক সপ্তাহ আগে ৪ নম্বর কয়রা লঞ্চঘাট সংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীতে সন্ধ্যার পরে বনদস্যু রবিউল চাঁদা আদায়ের জন্য ৩ ডাকাত নিয়ে হামলা চালায় মালবাহী একটি ট্রলারে।
এ সময় ট্রলারে থাকা শ্রমিকদের চিৎকারে লোকালয় থেকে লোকজন নৌকা নিয়ে দস্যুপ্রধান রবিউলকে পাকড়াও করে কয়রা থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
৮টি মামলার আসামি বনদস্যু রবিউলকে নিয়ে পুলিশ ওই দিন রাতে অস্ত্র উদ্ধারে সুন্দরবনের গেলে পুলিশের সঙ্গে দস্যুদের গোলাগুলিতে বাহিনীপ্রধান রবিউল মারা যায়।
২১ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে বনদসু্যু বাদশা খান ৬ নম্বর কয়রার এক জেলের নৌকায় চড়ে লোকালয়ে পার হয়ে খুলনা যাওয়ার প্রস্তুতিকালে গড়িয়াবাড়ি স্লুইসগেট এলাকায় জনতার হাতে ধরা পড়ে। পরদিন ধৃত জেলে ভবসিন্ধু ম-লের স্বীকারোক্তিতে পুলিশ সুন্দরবনের শাকবাড়িয়া ফরেস্ট ক্যাম্পের নিকটবর্তী বন থেকে এলজি একনলা বিদেশি বন্ধুক, ২২ বোরের রাইফেল ও গুলি উদ্ধার করে।
নাম প্রকাশ না করে অনেক জেলে জানিয়েছেন, সুন্দরবনে প্রবেশ করা মাত্রই বনদস্যুদের দেখা মেলে। চাঁদা না দিয়ে মাছ ও কাঁকড়া ধরার কোনো সুযোগ নেই। র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, পুলিশের হাতে বেশ কয়েকজন দুর্ধর্ষ বনদস্যু মারা গেলেও তৎপরতা থেমে নেই দস্যুদের।