আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাক ও সিরিয়ায় প্রভাব বিস্তারকারী জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটকে দমনে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সহায়তা চেয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত মাসের মাঝামাঝিতে লেখা এক গোপন চিঠিতে বারাক ওবামা এই সহায়তা চান বলে জানিয়েছে ‘দা ওয়াল স্টিট জার্নাল’ পত্রিকাটি।
‘Obama Wrote Secret Letter to Iran’s Khamenei About Fighting Islamic State’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানায়, ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ নিয়ে চারবার খামেনিকে চিঠি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেসব চিঠিতে তিনি তেহরানের ইসলামিক সরকারের সঙ্গে একত্রে কাজ করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ওবামার মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, সেটি নেতিবাচক বা ইতিবাচক যাই হউক না কেন। যুক্তরাষ্ট্র গত ছয মাস ধরে আইএস জঙ্গিদের দমনে সামরিক এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ওই চিঠিতে ওবামা ইরানের ঘনিষ্ট মিত্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তেহরানের উদ্বেগ প্রশমিত করারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এর অর্থ হচ্ছে, মার্কিন সামরিক বাহিনী সিরিয়ার অভ্যন্তরে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালালেও প্রেসিডেন্ট আসাদ বা তার নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো ক্ষতি করবে না। এছাড়া তিনি ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন বলে ওয়ালা স্ট্রিট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ আলোচনার সময়সীমা আগামী ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ওবামা প্রশাসন ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করার পক্ষে মত দিয়েছে।
তবে ওবামার চিঠি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হোয়াইট হাউস স্পিকার জন বোহেনার। তিনি বলেন,‘আমি ইরানিদের বিশ্বাস করি না। আমি তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি করাকে সমর্থন করি না।’
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রে মিত্র দেশগুলো যেমন ইসরায়েল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে খুবই স্পর্শকাতর। ইরানের সঙ্গে পরমাণু বিষয়ক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের নরম মনোভাবের বিষয়ে এসব দেশের নেতারা তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের ধারণা এ ধরণের চুক্তির ফলে ইরান ভবিষ্যতে পরমাণু অস্ত্র উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করবে।
তবে খামেনির কাছে পাঠানো ওবামার চিঠির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি উর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জন আর্নেস্টের কাছে। তিনি এটিকে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের ‘ব্যক্তিগত চিঠিপত্র’ বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে তিনি স্বীকার করেন যে, অতীতে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরমাণু কর্মসূচি সংক্রান্ত আলোচনার ফাঁকে ইসলামি স্টেটের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান নিয়ে কথা বলেছেন মার্কিন আলোচকরা। তবে আইএসর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে কোনো সামরিক সহায়তা চায়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন। ইরানি নেতা খামেনির সঙ্গে একটি কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে গত ছয় বছর ধরেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ওবামা। ৭৫ বছর বয়সী এই নেতাকে ২০০৯ সালের প্রথম ছয় মাসে দুটি চিঠি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই চিঠিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন ওবামা। কিন্তু খামেনি এগুলোর কোনোটিরই উত্তর দেননি।
২০১৩ সালের জুন মাসে হাসান রুহানি ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দু দেশের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হলেও ওবামা জানেন, তেহরানের পররাষ্ট্র নীতিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা একমাত্র খামেনিরই। তাই তাকে প্রভাবিত করতেই চিঠি লিখে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

