ঢাকাSunday , 14 August 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিরিয়ার মানবিজে ‘অন্যরকম স্বাধীনতা’

Link Copied!

 syriaআন্তর্জাতিক ডেস্ক : দুই বছর জঙ্গিদের শাসনে অবরুদ্ধ সিরিয়ার মানবিজ শহরের কয়েক হাজার মানুষ মুক্তির নিঃশ্বাস নিয়েছে। প্রায় দুই মাসের টানা যুদ্ধের পর দেশটির উত্তরাঞ্চলের এ শহর থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব হয়েছে তথাকথিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের। সঙ্গে সঙ্গে শহরের রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করে মানুষ।
আইএসের দুঃশাসন থেকে মুক্তির ঘোষণা আসার পরপরই আনন্দের বান ডাকে মানবিজে। মৌলিক স্বাধীনতা হরণের দুই বছর পর তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছে। দিনের পর দিন অবরুদ্ধ থাকা নারীরা, দাড়ি পরিচ্ছন্ন রাখতে না পারা পুরুষরা, ভয়ে ভীত শিশুরা এবং আইএস হটানো যোদ্ধারা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে।
সিরিয়ায় তুরস্কের সীমান্তের কাছে মানবিজ শহর। ২০১৪ সালে এটি দখল করে দমন-পীড়ন শুরু করে আইএস। তাদের বিতাড়িত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট আরব ও কুর্দি যোদ্ধারা টানা ৭৩ দিন যুদ্ধ করে। আইএসের হাতে মানববর্ম হিসেবে ব্যবহৃত ২ হাজার লোকও মুক্ত হয়েছে। প্রতিমুহূর্তে যারা ছিল মৃত্যুর আতঙ্কে, মুক্ত হয়ে তারা বাধ ভাঙা আনন্দে আত্মহারা।
মানবিজে এক নারীর সঙ্গে কথা বলে রয়টার্স জানতে পেরেছে এমন একটি স্থানের কথা যেখানে লোকজনকে নানা অজুহাতে শিরñেদ করা হতো। ওই নারী জানিয়েছেন, ‘যেকোনো কারণে অথবা আল্লাহকে বিশ্বাস করে না, এমন অজুহাতে তারা মানুষকে ধরত এবং মাথা কেটে ফেলত… সম্পূর্ণ অবিচার।’
মানবিজ থেকে আইএস বিতাড়িত হওয়ায় এখন তিনি খুশি। তবে তার ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তাকে তাড়া করে ফেরে। তিনি বলেন, ‘এ অবিশ্বাস্য, অবিশ্বাস্য। আমি যা দেখেছি, অন্য কেউ তা দেখেনি।’
আইএসকে বিতাড়িত করা যোদ্ধাদের উদ্দেশে এক নারী বলেছেন, ‘তোমরা আমাদের সন্তান, তোমরা আমাদের বীর, তোমরা আমাদের হৃদয়ের রক্ত, তোমরা আমাদের নয়ন। দূর হ দায়েশ।’ আরবিতে আইএসকে দায়েশ (শয়তান) বলে।
২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চলছে। সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে গৃহযুদ্ধের সুযোগে ২০১৩ সালে আত্মপ্রকাশ করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস, যারা সিরিয়া ও ইরাকের বিশাল অঞ্চল দখল করে খিলাফত ঘোষণা করে, যার রাজধানী সিরিয়ার রাকায়। সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীরা একই সঙ্গে দুটি যুদ্ধ চালাচ্ছে। সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠী উভয় আইএসের বিরুদ্ধে লড়ছে এবং একই সঙ্গে তাদের নিজ নিজ অবস্থানে থেকে যুদ্ধ করছে।
সিরিয়ার বিশাল অংশে এখনো আইএস তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাদের নির্মূল করতে যুদ্ধের ময়দানে আছে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্সসহ প্রায় ৬০টি দেশের সামরিক শক্তি।