অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানে করপোরেট করের ক্ষেত্রে আগেই বিশেষ সুবিধা দিয়েছে সরকার। তালিকাবহির্ভূত অন্য প্রতিষ্ঠানকে ৩৫-৪৫ শতাংশ আয়কর দিতে হলেও পাটজাত শিল্পে এ করহার ১৫ শতাংশ। তবে পাট শিল্পের ভঙ্গুর অবস্থা বিবেচনা করে এ করহার আরো কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।
আগামী চার বছর শিল্পের অর্জিত আয়ে কোম্পানির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্য করদাতাও এ সুবিধা পাবেন।
বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ৪৪ নং অধ্যায়ের সাব-সেকশন ৪ এর (বি) দফার ক্ষমতাবলে পাটজাত দ্রব্য উৎপাদনে নিয়োজিত কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের অর্জিত আয়ের ওপর আয়কর কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত কোম্পানির পাশাপাশি এ খাত সংশ্লিষ্ট অন্য করদাতারাও এ সুবিধা পাবেন।
এনবিআর সূত্র জানায়, আয়কর আইনে কোম্পানিকে তাদের মোট আয়ের ওপর খাত হিসেবে ২৫-৪৫ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হয়। দেশীয় শিল্প রক্ষা ও পাটশিল্পকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে আগেই এ শিল্পের ওপর ১৫ শতাংশ আয়কর নির্ধারিত ছিল।
প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতিবছর তিনটি স্লাবে এ আয়কর নিত এনবিআর। এর মধ্যে করদাতার মোট আয় ১০ লাখ টাকা হলে মোট আয়ের ১৫ শতাংশ, ১০ লাখের বেশি বা ৩০ লাখের কম হলে অতিরিক্ত আয়ে ১২ শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হতো। আর মোট আয় ৩০ লাখের বেশি হলে প্রথম ১০ লাখে ১৫ শতাংশ, পরের ২০ লাখে ১২ শতাংশ ও পরবর্তী আয়ের ওপর ১০ শতাংশ আয়কর দিতে হতো। বর্তমান আইন অনুযায়ী, খাত সংশ্লিষ্ট করদাতাকে পাট শিল্প থেকে প্রাপ্ত যেকোনো পরিমাণ আয়ে ১০ শতাংশ কর দিতে হবে।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা রাইজংবিডিকে বলেন, বিশেষ বিবেচনায় বহু আগে থেকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পাটশিল্পের ওপর ১৫ শতাংশ আয়কর নেওয়া হতো। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বিবেচনায় এখন তা আরো কমানো হলো। এতে শিল্প সংশ্লিষ্টরা উৎসাহিত হবেন।

