ঢাকাThursday , 11 August 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

যারা জঙ্গিবাদে জড়িত তাদের কোনো ধর্ম নেই

Link Copied!

hasina1নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা জঙ্গিবাদে জড়িত তাদের কোনো ধর্ম নেই, মানবতাবোধ নেই। মুষ্টিমেয় ব্যক্তির জন্য পবিত্র ধর্ম ইসলামকে খাটো করা যাবে না।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ওলামা সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। ‘ইসলামের দৃষ্টিতে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুলশান, শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার মতো ঘটনা দেশে ঘটতে পারে বলে কখনো কল্পনাও করিনি। যারা ধর্মে বিশ্বাস করে তারা কেমন করে এশার নামাজের সময় নামাজে না গিয়ে গেলো মানুষ খুন করতে, ধর্মের নাম নিয়ে তারা ঈদের জামাতে না গিয়ে মানুষ খুন করে। এরা কীভাবে জান্নাতে যাবে? জঙ্গিবাদে জড়িতদের কোনো ধর্মই নেই।’
সৌদি আরবের সরকারের সহযোগিতায় দেশের প্রত্যেক জেলা উপজেলায় ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি। জঙ্গিবাদবিরোধী জনসচেতনায় মানুষকে উদ্ধুদ্ধ করতে আলেমদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশেকে জঙ্গি সন্ত্রাসবাদ মুক্ত রাখতে চাই। দেশে সবাই নিজ নিজ ধর্ম সম্মানের সঙ্গে পালন করবে। ইসলাম পবিত্র ধর্ম, শান্তির ধর্ম। দোয়া করবেন, কুদৃষ্টি থেকে খোদা যেন বাংলাদেশকে রক্ষা করে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে মানবিক ও উদার, শান্তি-সৌহার্দ্য ও সহনশীলতার ধর্ম ইসলাম। সবচেয়ে দুঃখ লাগে যখন সামান্য কিছু লোক ধর্মের নাম ব্যবহার করে সন্ত্রাস চালাচ্ছে, মানুষ হত্যা করছে। আমাদের পবিত্র ধর্মকে হেয় করছে।
শেখ হাসিনা বলেন, যখন কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যাই, কেউ ইসলামিস্ট টেরোরিস্ট বললে আমি সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিবাদ করি। সন্ত্রাসী কোনো ধর্মের হতে পারে না। কিন্তু ভাবতে আমার নিজেরও কষ্ট লাগে। সামান্য কয়েকটা লোক কোথায় নিয়ে গেল আমাদের শান্তির ধর্মকে।
‘যারা সন্ত্রাস করে, মানুষ হত্যা করে তারা আদৌ কোনো ধর্মে বিশ্বাস করে কিনা সেটা দেখা দরকার।’
পবিত্র কোরানের একটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করলে সে যেন গোটা মানবজাতিকে হত্যা করলো। আর কেউ যদি কোনো ব্যক্তিকে রক্ষা, করে সে যেন গোটা মানবজাতিকে রক্ষা করলো। আরেকটি আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ মানুষ হত্যাকারী ও দুর্যোগ সৃষ্টিকারীদের পছন্দ করেন না।
সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা কোরআন, হাদিস, ইসলামের পবিত্র বাণী মানবে না, নামাজ না পড়ে মানুষ খুন করতে যায়, তারা কী করে বেহেশতে যাবে। তারা কী করে ভাবে, তারা মানুষ খুন করে বেহেশতে যাবে।’
ইসলামের মহান বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে আলেম সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সারাদেশের মানুষের মধ্যে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একটা চেতনা সৃষ্টি হয়েছে। এ চেতনাকে আরও শাণিত করতে হবে।
তিনি বলেন, মানুষকে আরও ভালোভাবে বোঝাতে হবে জঙ্গিবাদের পথ ইসলামের পথ নয়। কেউ যেন সন্ত্রাসের পথে না যায়। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে হবে।
এই আগস্টে বারবার আঘাত এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে, যিনি এ দেশের বঞ্চিত মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ডের ক’দিন আগে স্বামীর কর্মস্থলে চলে গিয়েছিলাম বলে আমরা দু’বোন রক্ষা পেয়ে যাই। মানুষ এতো শোক সইতে পারে না, আল্লাহ আমাদের সে শোক সইবার শক্তি দিয়েছেন।’
‘তারপর ১৩টি গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে বলে আমি রক্ষা পেয়ে যাই। আল্লাহর ইশারা না থাকলে এভাবে রক্ষা পাওয়া যায় না। ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পেতে রাখা হয়েছিল। একজন চা দোকানদার সেটা উদ্ধার করেছেন। এটাও আল্লাহর রহমত ছাড়া হতো না।’
শেখ হাসিনা বলেন, এমন বাধা সত্ত্বেও আমাদের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় দেশের এবং দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে কাজ করেছি। সবার সহযোগিতায় কাজ করে যাবো।
সম্মেলনে আরও বক্তৃতা করেন ধর্মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বাংলাদেশ জমিয়তুল উলামার চেয়ারম্যান ও ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদ জামাতের প্রধান ইমাম আল্লামা ফরিদউদ্দীন মাসউদ।