ঢাকাThursday , 21 July 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিক্ষকদের ভেতর যেন ‘কুলাঙ্গার’ না ঢোকে

Link Copied!

nahidনিজস্ব প্রতিবেদক : যারা ‘নামেমাত্র’ শিক্ষক অথচ ‘কুশিক্ষক বা কুলাঙ্গার’, যারা শিক্ষার্থীদের ‘বিপথে’ পরিচালনা করেছে; তাদের ‘টিকতে’ দেয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারাও খেয়াল রাখবেন, শিক্ষকদের ভেতর যেন কোনো কুশিক্ষক, কুলাঙ্গার ঢুকে না পড়ে।’
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত ‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শান্তির সমাবেশে’ আগত অধ্যক্ষদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
‘আপনার যারা আছেন, তারা প্রত্যেকে নিজেরদের প্রতিষ্ঠানের নেতা। আপনাদের দায়িত্ব নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে জঙ্গিবাদ সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা। প্রতিরোধে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা’, বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘কলেজ পর্যায়ে জঙ্গিবাদের ব্যাধি ঢুকতে দেবেন না। কোনো শিক্ষার্থী যাতে জঙ্গিবাদের ছোবলে বিপথগামী না হয়, একজন শিক্ষার্থীও যেন মূল শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেহাত হয়ে না যায়, সেদিকে আপনাদের সচেতন থাকতে হবে।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘হাজার বছরের ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে কথিত ইসলাম প্রতিষ্ঠার নামে যে হামলা চালানো হচ্ছে তার কোনো মিল নেই। ইসলামে মানুষ হত্যা মহাপাপ অথচ তারা ইচ্ছেমতো মানুষ হত্যা করে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে ইসলামের নামে ভুল তথ্য দেয়া হচ্ছে। এটা আমরা মেনে নিতে পারি না। আজকে আমাদের মানুষ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সচেতন হয়েছেন। সোচ্চার হয়েছেন জনগণ। এ ধরনের হামলা আর তারা হতে দিবেন না।’
জঙ্গিবাদকে বৈশ্বিক সমস্যা আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এ জঙ্গিবাদ ইরাক সিরিয়ায় যত ইসলামী ঐতিহ্য ছিল সব ধংস করে দিয়েছে। পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, সিরিয়া এমনকি উন্নত দেশও জঙ্গিবাদের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। জঙ্গিবাদ কোনো দেশীয় সমস্যা নয় এটা বৈশ্বিক সমস্যা।’
তিনি বলেন, ‘সাধারণ সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে আমরা পরিচতি হলেও এ জঙ্গিবাদের সঙ্গে কোনো পরিচয়ই আমাদের ছিল না। নতুন একটি সঙ্কটের মুখোমুখি আমরা। যা অত্যন্ত উদ্বেগের। প্রধানমন্ত্রী নিজে বিষয়গুলো মনিটরিং করছেন এবং এ সঙ্কট নিরসনে পদক্ষেপ নিয়েছেন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘একটা সময় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশঙ্কা করা হত। কারণ সেখানে দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা পড়াশোনা করে। বিগত হামলাগুলো থেকে আমরা দেখতে পেয়েছি, সমাজের উচ্চবিত্ত পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে যাচ্ছে। এর সাথে নামি-দামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও জড়িত।’
তিনি বলেন, ‘যাদের নাম এসেছে সে সব প্রতিষ্ঠানকে আমরা সতর্ক করে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নির্দেশনা মানেননি। আবারও তাদের নির্দেশনা দেয়া হবে। আমরা সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৫ কোটি সদস্যের শিক্ষা পরিবার, যেখানে ২৫ লাখ শিক্ষক রয়েছেন। জাতীয় ‍বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ২ হাজার ২০০ কলেজে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। আমাদের উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৩২ লাখ শিক্ষার্থী। এত বড় পরিবার আমরা, দায়িত্বটাও আমাদের নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের নজর রাখতে হবে। ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে হবে। জাতির গৌরবময় তথ্য অর্জন শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুলে ধরতে পারবে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিজের দেশ নিয়ে গর্ব করতে পারে।’
শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘১০ দিন অনুপস্থিত থাকলেই শিক্ষার্থীকে জঙ্গি ভাবার কিছু নেই। আগে তার পরিবারের খোঁজ নেবেন। হয়তো সে অসুস্থও থাকতে পারে। তার পরিবার যদি বলে সে নিখোঁজ, তারপর আপনারা নির্দেশনা অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবেন।’
এ সময় তিনি জঙ্গিবাদ দমনে পারিবারিক, সামাজিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি বলয় তৈরি করার আহ্বান জানান।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর রশিদের সভাপতিত্বে সমাবেশে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত শিক্ষাসচিব এ এস মাহমুদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, পাবলিক বিশ্বিবিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সংগঠন বিশ্ববিদ্যলয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আলাউদ্দিন, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য ড. দিল আফরোজাসহ প্রায় ১২০০ কলেজপ্রধান।