নিউজ ডেস্ক : ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে দেশ এবং দেশের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন যাতে জঙ্গি বা জঙ্গি সংগঠনে অর্থায়ন করতে না পারে সে জন্য ব্যাংকগুলোকে আরো সতর্ক থাকতে বলেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। এ কাজটি ঠিকঠাকভাবে করতে প্রতিটি ব্যাংককে একটি করে বিশেষ টিম গঠনেরও নির্দেশ দিয়েছে বিএফআইইউ।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকে ২৮টি তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং প্রধান মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন কর্মকর্তাদের (ক্যামেলকো) সঙ্গে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করার বিষয়ে আলোচনায় বসে বিএফআইইউ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও বিএফআইইউ প্রধান আবু হেনা মোহাম্মদ রাজি হাসানের সভাপতিত্বে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসে বিএফআইউ। এ বিষয়ে আগামীকাল (২০ জুলাই) বাকি ২৮টি ব্যাংকের সঙ্গে এ সভার দ্বিতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। তারপর সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সভায় উপস্থিত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলকে ব্যবহার করে যাতে জঙ্গিরা অর্থায়ন করতে না পারে সে বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক হওয়ার পাশাপাশি জঙ্গি অর্থায়ন প্রতিরোধে আরও বেশি সক্রিয় হতে বলা হয়েছে। সন্দেহজনক কোন লেনদেন হলে সঙ্গে সঙ্গে তা রিপোর্ট করতে ও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে এমডিদের একটি স্পেশাল টিম গঠন করতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর বিএফআইইউ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে বসে। ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে। এটাও সেরকম মিটিং হতে পারে। তবে আমি এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না, জানার চেষ্টাও করি নাই। বিএফআইউ থেকে আমাকে জানানোও হয়নি।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পরপর দু’টি জঙ্গি হামলার ঘটে গেল। এসব হামলায় কারা অর্থের জোগান দিচ্ছে তা খুঁজে বের করতে চেষ্টা করছে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করে যাতে জঙ্গি অর্থায়ন করার সুযোগ না দেয়া হয় সে লক্ষ্যে বরাবরই ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে আসছে বিএফআইইউ।

