নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রের পাশাপাশি কিছু শিক্ষক জঙ্গিবাদের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। আমরা তাদের চিহ্নিত করেছি ও আরো করা হচ্ছে।’
রোববার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা-বিষয়ক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।
সভা থেকে আগামী ২৩ তারিখে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে একই ধরনের সভা করার ঘোষণা দেন। এরপরই হবে দেশের সব মাদ্রাসার অধ্যক্ষদের নিয়ে সভা। পরে জেলা ও বিভাগীয় শহরে অপশক্তিবিরোধী সভা করার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি জানান, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রের পাশাপাশি জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাদের এই পেশায় থাকার কোনো অধিকার নেই।
তিনি বলেন, ‘অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি আমরা চার বছর ধরে নজর রাখছি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারা এখনো সে অনুযায়ী চলছে না।’
শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেক শিক্ষক বলেন এত ছাত্র-ছাত্রীর প্রতি কীভাবে খেয়াল রাখব। তাদের বলব যদি ছাত্রদের চিনতে ও খেয়াল রাখতে না পারেন, তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠানে কেন ভর্তি করেন। এর পাশাপাশি অভিভাবকদের বলব তারা তাদের সন্তানদের প্রতি বিশেষ নজর দেবেন। যদি সন্তানদের মধ্যে আচরণগত বিশেষ কোনো পরিবর্তন দেখতে পান তাহলে প্রশাসনকে জানাবেন।’
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘একসময় ৫৬টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ৯৫টি। এর মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় এখনো কার্যক্রম শুরু করেনি। অনেক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে পাঁচ বছর আগে শর্ত পূরণের আশ্বাস দিয়েছিল, অথচ তারা কোনো শর্তই পূরণ করেনি। কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আইনের তোয়াক্কাই করে না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চ আদালতের সাহায্য নিয়ে এখনো টিকে আছে। যারা শুধু মুনাফার লোভে এ ব্যবসায় এসেছেন তাদের বলব শিক্ষায় মুনাফার কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ১ হাজার ৪৮৪ জন বিদেশি ছাত্র বাংলাদেশে লেখাপড়া করছেন। এই সংখ্যা আরো বাড়াতে চাই। আমরা সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। বর্তমানে ৩ লাখের বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ৪ লাখ ৬৩ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। আমরা কোনো শিক্ষার্থীকে আলাদাভাবে দেখতে চাই না।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক বাংলাদেশ গড় তোলা। এ জন্য নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা চাই না। এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষার ওপর জোর দিচ্ছি। এর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। তাদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।’
সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সভাপতিত্বে সভায় র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদসহ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা ছিলেন।

