আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না থাকার প্রশ্নে আজ রায় দিতে চলেছে ব্রিটিশ নাগরিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে ঐতিহাসিক গণভোট শুরু হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সকাল সাতটায় (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা) ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। টানা চার মাস ধরে ইইউ’র পক্ষে বিপক্ষের নেতারা তুমুল প্রচারণা চালানোর পর এই ভোট শুরু হয়েছে। ওই প্রচারণায় উভয় পক্ষই ব্রিটিশ জনতাকে নিজেদের পক্ষে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছেন।
সিএনএন বলছে, লন্ডনে গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মধ্যে ভোটারদের ছাতা মাথায় লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে দেখা যাচ্ছে। স্কটল্যান্ডের কিছু অংশে রোদের দেখা মিললেও নর্থ আয়ারল্যান্ডে ভারি বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গেছে। তবে বৃষ্টিপাত ভোটারদের উৎসাহ উদ্দীপনায় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। ইংল্যান্ড থেকে শুরু করে ওয়েলস, স্কটল্যান্ড, নর্থ আয়াল্যান্ড এবং স্পেনের দক্ষিণ উপকূলের ব্রিটিশ এলাকা জিব্রাল্টারে একসঙ্গে ভোট হচ্ছে। দেশের বাইরে অবস্থানকারী ব্রিটিশ নাগরিকরা নিজেদের ইমেইল ব্যবহার করে ভোট দিতে পারবেন।
ঐতিহাসিক এই গণভোটে অংশ নিচ্ছেন রেকর্ড সংখ্যক ব্রিটিশ ভোটার। এই নির্বাচনে মোট বৈধ ভোটারের সংখ্যা হচ্ছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৯৯ হাজার ৫৩৭। দেশটির ইতিহাসে এটি চতুর্থ গণভোট। ভোট শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হবে গণনা। শুক্রবার সকাল নাগাদ ভোটের ফলাফল জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ভোটে ব্যালট পেপারে কোনো মার্কা থাকছে না। এর বদলে কেবল লেখা রয়েছে ‘যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য থাকা উচিত, নাকি এটি ছেড়ে আসা উচিত?’ দুটি প্রশ্নের পাশে দুটো ফাঁকা ঘর রয়েছে যেখানে ক্রস চিহ্ণ দিয়ে নিজেদের মতামত জানাবেন ভোটাররা। এই ‘হ্যা’ ও ‘না’ ভোটে সেই পক্ষকেই বিজয়ী বলে ঘোষণা করা হবে যারা মোট ভোটের অর্ধেকের বেশি ভোট পাবে।
ভোট শেষে ব্যালট বাক্সগুলো স্থানীয় ৩৮২টি গণনাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। এগুলোর মধ্যে ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে ৩৮০টি এবং নর্থ আয়ারল্যান্ড ও জিব্রাল্টারে একটি করে গণনাকেন্দ্র রয়েছে। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে ওইসব কেন্দ্রে ভোট গণনার কাজ চলবে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৩ সাল থেকে ইইউ’র সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্রিটিশরা। আজকের গণভোটে বিরোধী পক্ষ বিজয়ী হলে সংস্থাটির সঙ্গে দীর্ঘ ৪৩ বছরের সম্পর্কের ছেদ ঘটবে যুক্তরাজ্যের।

