আন্তর্জাতিক ডেস্ক : জাতিসংঘের দেয়া নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে বুধবার পরপর দুটি মধ্যম পাল্লার মুসুদান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির পূর্বাঞ্চচলীয় উপকূলে ওই দুটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়েছে বলে জানাচ্ছে স্কাই নিউজ। তবে এদের অন্তত একটি ব্যর্থ হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, জাপান সাগরের ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া উত্তর কোরিয়ার প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাটি ব্যর্থ হয়েছে। এটি মাঝ আকাশে বিধ্বস্ত হওয়ার আগেই দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। তবে দ্বিতীয়টি সফল হয়েছে কিনা তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। তবে ভূপতিত হওয়ার আগে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪শ কিলোমিটার উঁচুতে উঠেছিল।
পরমাণু কর্মসূচির কারণে উত্তর কোরিয়ার যে কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে জাতিসংঘ। তবে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই গত দুই মাসে অন্তত ছয়টি মুসুদান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। ১৫৫০ থেকে ২৫শ মাইল পাল্লার এসব ক্ষেপণাস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এমনকি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতেও আঘাত হানতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার কাছে অন্তত কয়েক ডজন মুসুদান ক্ষেপণাস্ত্র আছে বলে ধারণা করা হয়ে থাকে। কোনো কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তার মতে, তাদের কাছে ৩০টির বেশি মুসুদান ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। যদিও এসব ক্ষেপণাস্ত্রের সব ক’টি পরীক্ষাই ব্যর্থ হয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বলেন, উত্তর কোরিয়ার সর্বশেষ পরীক্ষা চালানো ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আন্তমহাদেশীয় হলে দেশটির এমন কার্যক্রম আর মেনে নেয়া যাবে না। জাপানের সরকার আরো জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার কোনো ক্ষেপণাস্ত্র তার দেশটির আকাশসীমায় পৌঁছালে তা গুলি করে ভূপাতিত করা হবে।
আর পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পর এক নিরাপত্তা বৈঠকে মিলিত হয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। আর এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
আণবিক বোমা তৈরিতে সফলতা পেলেও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে উত্তর কোরিয়া। যদিও উত্তর কোরিয়ার ওই দাবি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ।

