আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে আরেকটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। শনিবার দেওয়া এ রায়ে আদালত মুরসির পাশাপাশি একই অভিযোগে অভিযুক্ত করেছন আরো ছয়জনকে।
এদের মধ্যে আল জাজিরার তিন সাংবাদিক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই এ রায় দেওয়া হয়। এছাড়া প্রেসিডেন্ট থাকাকালে মুরসির দপ্তরে কাজ করা তার দুই সহযোগীকেও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। সূত্র রয়টার্স।
দণ্ডপ্রাপ্ত সবাই রায়ের বিরুদ্ধে দেশটির সর্বোচ্চ বেসামরিক আদালতে আপিল করতে পারবেন বলে জানাগেছে। সরকারি প্রসিকিউটর দাবি করেছেন, মুরসি ও তার সহযোগীরা কাতারি গোয়েন্দাদের কাছে রাষ্ট্রের স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
ওই তথ্য ফাঁসে মিশরীয় সশস্ত্র বাহিনীর কাছে থাকা অস্ত্রের অবস্থান প্রকাশ পেয়ে যায়। মুরসির সমর্থক কাতার এ রায়ের তীব্র সমালোচনা করে মামলাগুলোকে সাজানো বলে উল্লেখ করেছে।
মিশরের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মুরসি ইতোমধ্যে আরো তিনটি মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন। এসবের মধ্যে সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে ২০১১ সালে গড়ে ওঠা গণঅভ্যুত্থানের সময় জেল ভেঙে পালানোর ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের পক্ষে গোয়েন্দাগিরির অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। মিশরের প্রথম অবাধ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে মিশরের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ব্রাদারহুডের মুরসি। কিন্তু ২০১৩ সালে গণঅসন্তোষের সুযোগ নিয়ে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে মিশরীয় সেনাবাহিনী।

