নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ এবং চীনের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আশা করেছে দেশ দুটি। তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আসা চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চ্যাং ওয়ানকুয়ান বাংলাদেশের তিন বাহিনী প্রধানদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতেও চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
চীনা সংবাদমাধ্যম সিনহুয়ার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রবিবার (২৯ মে) চ্যাং ওয়ানকুয়ান বলেন, ‘১৯৭৫ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে রাজনীতি, অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে ওঠে।’ দুই দেশের নেতারা অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো সামরিক ক্ষেত্রেও আরও গভীর সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘চীনা সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে একযোগে কাজ করতে চায়।’ চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে যেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল – কৌশলগত বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা, সামরিক প্রশিক্ষণ, সমরাস্ত্র প্রযুক্তি বিনিময় – এসবের প্রেক্ষাপটেই দুই বাহিনীর মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সিনহুয়ার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রী সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল মুহাম্মদ নিজামউদ্দিন আহমেদ এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল আবু এসরারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে সামরিক প্রধানরা চীনকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত কৌশলগত অংশীদার বলে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেন, দেশ দুটির মধ্যে উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক রাজনৈতিক আস্থা রয়েছে, যা নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্য সহযোগিতা।
চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চ্যাং ওয়ানকুয়ান এবং বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক
দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের কারণে সামরিক প্রধানরা চীনকে সাধুবাদ জানান এবং জাতীয় স্বার্থে চীনের অবস্থানকে সমর্থন করেন। এ সময় তারা চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চীনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চ্যাং ওয়ানকুয়ান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেও প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ‘কৌশলগত সম্পর্ক’ বাড়াতে তার দেশের আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি এসময় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ, যন্ত্রপাতি সরবরাহ ও রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা দেওয়ায় চীনকে ধন্যবাদ জানান এবং আশা করেন চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা খাতে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
রাষ্ট্রপতি আদুল হামিদ চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে চীনের উন্নয়ন সহযোগিতা বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

