মাদারীপুর প্রতিনিধি : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় শিশুশ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। দারিদ্রের কসাঘাতে বিভিন্ন পরিবারের শত শত শিশু বিদ্যালয়ের বারান্দায় পা দিতে না দিতেই জীবিকা অর্জনের জন্য কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
কালকিনি উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, যে বয়সে শিশুদের বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, সে বয়সে তারা জীবিকার টানে হোটেল-রেস্টুরেন্ট, চায়ের স্টল, ইট ভাঙা, নির্মাণ কাজ, ওয়েল্ডিং কারখানায় কাজ, রিকশা চালানো, টেম্পোর হেলপাড়, দোকান কর্মচারী ও হকারীসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে।
উপজেলায় নসিমন চালক সজল, রাসেল ও কালাচান এদের কারো বয়স ১১ থেকে ১২। এসব শিশুর কোনো দিন স্কুলে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। পাঁচ বছর বয়সেই সংসারের অভাব অনটনের কারণে কাজে নামতে হয়েছে দরিদ্র পরিবারের এসব সন্তানদের। কাক ডাকা ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই তাদের কাজে নামতে হয় আর শেষ হয় গভীর রাতে।
এর বিনিময়ে মহাজনের কাছ থেকে তিন বেলা খাবার, বছরে দুই খানা লুঙ্গি, একটি জামা ও একটি গামছা জোটে ওদের ভাগ্যে। অমানুষিক শ্রম, অবহেলা অনাদরে মহাজনের বাড়িতে থাকতে হয় ওদের। সব মিলিয়ে কালকিনিতে শত শত শিশুশ্রমের একটি বাস্তব নমুনা মাত্র।
ভ্যান চালক শিশু শ্রমিক সোহেল (১২) এর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বাবা মারা গেছে। মা তাকে স্কুলে ভর্তি করতে চেয়েছিল। কিন্তু আর্থিক অভাবের কারণে স্কুল ছেড়ে ভ্যান চালাতে হচ্ছে। এছাড়া সদরের ওয়েল্ডিং কারখানার শিশু শ্রমিক নয়ন (১৩), কালাম (১০) ও সেলিমের (১১) পরিবারের একই অবস্থা। কালকিনি উপজেলায় শিশু শ্রম সহজলভ্য হওয়ায় এখানকার ব্যবসায়ীরা শিশু শ্রমিকদের প্রতি বেশি আগ্রহী।
স্থানীয় এনজিও চলন্তিকা যুব সোসাইটি সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় শিশু শ্রমিকের সংখ্যা তিন সহস্রাধিকের বেশি।
এ ব্যাপারে মানবাধিকার কর্মী মো. নেছার উদ্দিন জানান, ওই সব অসহায় শিশুরা অনাদর ও অবহেলায় বড় হচ্ছে। এক সময় তারা ভালো পরিবেশ না পেয়ে কেউ কেউ মাদকাসক্ত হচ্ছে। আবার কেউ সমাজে বিভিন্ন খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। তাই তাদের শিশু শ্রমে না পাঠিয়ে স্কুলে পাঠালে সুন্দর সমাজ গড়া সম্ভব।

