নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রস্তুতি, প্রচার-প্রচারণা সবই শেষ। এখন অপেক্ষা ভোটের। শনিবার (২৮ মে) পঞ্চম ধাপে দেশের ৪৪ জেলার ৮৬ উপজেলার ৭২০ ইউনিয়ন পরিষদে ভোটগ্রহণ। সকাল ৮টায় শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ চলবে টানা বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এসব ইউপিতে ভোটার সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখের কিছু বেশি।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় ইউনিয়ন পরিষদ তৃণমূলের এ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচার শেষ হয়েছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। শুক্রবার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তারা কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছেন ব্যালট পেপার, বাক্সসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম। এক লাখেরও বেশি নির্বাচনী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন ভোটে।
পঞ্চম ধাপের এ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে মোতায়েন করা হয়েছে দেড় লাখ পুলিশ, আনসার, র্যাব ও আধা সামরিক বাহিনী বিজিবি সদস্য। ইতোমধ্যে তারা সংশ্লিষ্ট এলাকায় টহল দিতে শুরু করেছে।
নির্বাচনে ৭২০ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ২৫৪। সাধারণ সদস্য পদে ২৭ হাজারের বেশি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজারের বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ১৫ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭২৭ এবং ১ হাজার ৫২২ লড়ছেন স্বতন্ত্র হিসেবে।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছে ৭২৬ ইউপিতে, ৬২৯ ইউপিতে রয়েছে বিএনপির প্রার্থী।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টি ১৭৭, জাসদ ২১, বিকল্পধারা ২, ওয়ার্কার্স পার্টি ১৩, ইসলামী আন্দোলন ১২২, জেপি ২, ইসলামী ফ্রন্ট ১১, এলডিপি ৬, সিপিবি ৫, জেএসডি ১, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৬, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৭ এবং আরেক দল প্রার্থী দিয়েছে এক ইউপিতে।
ভোটের তফসিল ঘোষণার পর বিভিন্ন কারণে এ পর্যন্ত ১৪ ইউপিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করছে নির্বাচন কমিশন।
আগের মতো পঞ্চম ধাপেও চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয় অব্যাহত রয়েছে। এ ধাপে ভোটের আগের দিন পর্যন্ত দলটির ৪২ প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। প্রথম ধাপে বিনা ভোটে দলের ৫৪, দ্বিতীয় ধাপে ৩৪, তৃতীয় ধাপে ২৯ এবং চতুর্থ ধাপে ৩৫ প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এ নিয়ে ১৯৩ প্রার্থী জয় পেয়েছে ভোট ছাড়াই।
আগের চার ধাপের মতোই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা ও নানা অভিযোগের মধ্যে শনিবার ৭২০ ইউপিতে তৃণমূলের এ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এরই মধ্যে নির্বাচনী এলাকায় টহল শুরু করেছেন।
ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত সাড়ে তিন মাসে নির্বাচনী সহিংসতায় প্রাণহানি শতাধিক। প্রতিদিনই ঘটছে সংঘর্ষ-হামলার ঘটনা ঘটছে।
গেল চার ধাপের মতো সহিংসতার আশঙ্কার মধ্যে পঞ্চম ধাপের এ ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।তবে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেছেন, ‘ভোটের দিনক্ষণ এগিয়ে গোলযোগের প্রবণতাও বাড়ছে। আমরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলো ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কমিশন সজাগ রয়েছে। অনিয়মে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেয়া আছে।’
এদিকে অন্যান্য ধাপের মতো বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সুষ্ঠু ভোটের কোনো সম্ভাবনা তারা দেখছে না। ভোটের নামে এখন ‘ডাকাতি’ চলছে বলেও জানান বিএনপি নেতারা।
দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান গত বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে তাদের অভিযোগ জানিয়ে আসেন।
সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশের সহায়তায়’ ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা কেন্দ্র দখল করে জয় নিশ্চিত করছে। বারবার ইসিতে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যাচ্ছে না।’
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ নির্বাচন ‘সুষ্ঠু হচ্ছে’ দাবি করে পাল্টা অভিযোগে বলেছে, বিএনপি এ ভোটকে ‘বিতর্কিত’ করতে ‘ষড়যন্ত্র’ করে আসছে।
গত ২২ মার্চ, ৩১ মার্চ, ২৩ এপ্রিল ও ৭ মে বিক্ষিপ্ত গোলাযোগ ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগের মধ্য দিয়ে চার ধাপের ভোট হয়। তারপরও পরবর্তী দুই ধাপে ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যাবেন এবং ভোট শান্তিপূর্ণ হবে বলে আশা করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।
পঞ্চম ধাপের ভোট সামনে রেখে সিইসি বলেছেন, সহিংসতা যাতে না হয় সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সজাগ রয়েছে।

