বাগেরহাট প্রতিনিধি : জেলার শরণখোলার ৩৫/১ পোল্ডারের বগি নতুন স্লুইসগেট এলাকার বেড়িবাঁধে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরপর কয়েক দফা ভাঙনের ফলে দেয়া ব্লক মূল বেড়িবাঁধের অনেকাংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া বড় বড় অংশ জুড়ে দেখা দিয়েছে ফাটল।
আসন্ন পূর্ণিমার জোয়ারের প্রভাবে বেড়িবাঁধের অবশিষ্টাংশ বিলীন হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে ভাঙন কবলিত এলাকার কয়েক হাজার মানুষ রয়েছে চরম আতঙ্কে।
শরণখোলা উপজেলার বগী গ্রামের নতুন স্লুইসগেট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, ৩৫/১ পোল্ডারের ব্লক দেয়া মূল বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার এলাকা জুড়ে ধস নেমে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অসংখ্য স্থানে দেখা দিয়েছে ফাটল। গত কয়েক দিনের মত ভূমিধস অব্যাহত থাকলে খুব কম সময়ের মধ্যেই মূল বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে পারে।
বগী গ্রামের বাসিন্দা মো. হানিফ মুন্সি জানান, মূল বেড়িবাঁধের প্রায় অর্ধেক অংশ নদীতে চলে গেছে অথচ কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নাই। একই গ্রামের ইউপি সদস্য রিয়াদুল পঞ্চাইত জানান, সিডর ,আইলা ও বার বার নদী ভাঙ্গনের ফলে এমনিতেই এ এলাকার মানুষ নিঃস্ব । এখন আবার বেড়িবাধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হলে মানুষের দূর্ভোগের সীমা থাকবে না। তাই যথাশিঘ্রই বাধঁ নিয়ন্ত্রনে কর্তৃপক্ষের ব্যাবস্থা নেয়া উচিৎ।
স্থানীয় সাউথখালী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মোজাম্মেল হোসেন জানান, বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে টেক সই বেড়িবাধের নির্মান কাজ শুরু হয়েছে । যদিও তা সম্পূর্ন করতে অনেক সময় লাগবে । ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় আপদ কালীন বিকল্প বেড়িবাঁধের ব্যাবস্থা করতে হবে।
বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউর রহমান বলেন, ‘৩৫/১ পোল্ডারের বেড়িবাঁধটি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণ কাজ চলছে। বিষয়টি নিয়ে তাদের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে ভালো হবে।
বিশ্বব্যাংক প্রজেক্টের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আ. হান্নান বলেন, ‘ভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

