নিউজ ডেস্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে আজ রাতেই।
ইতিমধ্যে সিভিল সার্জন আব্দুল মালেক মৃধা (৯টা ২৫ মিনিট) এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সালাউদ্দিন আহমেদ (১০টা ১২ মিনিট) কারাগারে প্রবেশ করেছেন। তাদের আগে রাত ৯টায় কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন কারাগার মসজিদের ইমাম মনির হোসেন। ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের আগে নিজামীকে তওবা পড়াবেন তিনি।
সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফাঁসির নির্বাহী আদেশ একটি ব্রিফকেসে করে কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে আসেন সিনিয়র জেল সুপার জাহাঙ্গীর কবির।
এদিকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকার সব রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কারাফটকের সামনে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা (গণমাধ্যম) দেখেছেন, প্রতিবারই রায় কার্যকর করার সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনেসহ আশপাশের রাস্তায় যানজটসহ সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
সন্ধ্যা থেকে দুই অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে, চালক দুজন হলেন নূর হোসেন ও হাজী মো. জমির আলীর। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রো চ ১১-২৪৪২ নম্বরের চালক জমির আলী। এর একটিতে নিজামীর মৃতদেহ বহন করে তার গ্রামের বাড়ি পাবনার সাঁথিয়াতে নেয়া হবে।
এদিকে, সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তিনটি গাড়িতে করে চার শিশুসহ পরিবারের ২৬ সদস্য কারাগারে নিজামীর সঙ্গে শেষ দেখা করেছেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে তারা বেরিয়ে যান।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন- নিজামীর স্ত্রী শামসুন্নাহার নিজামী, দুই ছেলে ড. খালিদ ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমিন, মেয়ে খাদিজা মহসীনা, বড় ছেলের স্ত্রী, দুই নাতি, নিজামীর চাচাতো ভাই, ভাইয়ের মেয়ে।
রীতি অনুযায়ী কারাগার মসজিদের ইমামকে সাথে নিয়ে জেল সুপার কনডেম সেলে যান। এরপর ইমাম আসামিকে তওবা পড়ান। ফাঁসি কার্যকরের কয়েক ঘণ্টা আগেই আসামিকে গোসল ও ইচ্ছানুযায়ী খাবার দেয়া হয়।
এর আগে সিভিল সার্জন আসামির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। পুরো সুস্থ আছেন এমন নিশ্চয়তা পেলেই ফাঁসি মঞ্চে নেয়া হয় আসামিকে।
এরপর যম টুপি ও গলায় দড়ি পরিয়ে দেয়া হয়। জেল সুপার হাতে রুমাল নিয়ে মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। সাথে দাঁড়িয়ে থাকেন অন্য অতিথিরা। জল্লাদের চোখ তখন রুমালের দিকে। রুমাল পড়ে গেলেই আসামির পায়ের নিচ থেকে পাটাতনটি সরিয়ে ফেলা হয়।
এর আগে আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতে প্রথমেই কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করেন ঢাকার সিভিল সার্জন, এরপর প্রবেশ করেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ম্যাজিস্ট্রেট)। এরপর আইজি প্রিজন, এডিশনাল আইজি প্রিজন, ডিআইজি প্রিজন, পুলিশ ও র্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তারা।
এর পর পরই একে একে সিভিল সার্জন আবদুল মালেক মৃধা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমদাদুল হক ও ডিএমপি কমিশনারের প্রতিনিধি নাজমুল আলমকে কারাগারে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
সর্বশেষ রাত ১০টা ৫৭ মিনিটে কারাগারে প্রবেশ করেন ভারপ্রাপ্ত আইজিপি কর্নেল ইকবাল হাসান।

