আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের বৃহত্তম প্রদেশ রাজস্থানের অষ্টম শ্রেণীর পাঠ্যবই থেকে মুছে ফেলা হয়েছে দেশটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর নাম। এমনকি বইটিতে দেশটির জাতির পিতার মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী হিন্দু জাতীয়তাবাদী নাথুরাম গডসের নামও একবারের জন্যও উল্লেখ করা হয়নি।
রাজস্থানের মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ব্যবহারের জন্য নতুন করে এই পরিমার্জন করেছে রাজ্যের ইন্সটিটিউট অব এডুকেশন রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং। এর আগের সংস্করণে ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে নেহেরু ও সরদার প্যাটেলকে নিয়ে আলাদা একটা অধ্যায় ছিল।
নতুন সংস্করণে নেহেরু, সরোজিনী নাইড়ু, মদন মোহন মালব্য-সহ আরো বেশ কয়েকজনের নাম মুছে ফেলে হয়েছে। রাজেন্দ্র প্রসাদকে প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করলেও প্রথম প্রধানমন্ত্রীর বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি বইতে।
এ বিষয়ে রাজস্থানের শিক্ষামন্ত্রী ভাসুদেব দেবনানী বলেন, সরকার কিংবা আমি এই বিষয়ে কিছু করিনি। সিলেবাস একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত কমিটি তৈরি করেছে এবং সরকার এই বিষয়ে নাক গলায়নি।
এদিকে এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে রাজস্থান কংগ্রেসের সভাপতি শচীন পাইলট। তিনি বলেন, ‘বিজেপি দলীয়করণটা সম্পূর্ণ নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে। তারা এমন দেউলিয়া অবস্থায় পৌছেছে যে দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর নাম ইতিহাসের বই থেকে মুছে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে তার মানে এই না যে তারা জাতির মনন গঠনে নেহেরুর অবদান মুছে ফেলতে পারবে। আমরা জাতির ইতিহাস পরিবর্তনের এই চেষ্টার বিরুদ্ধে লড়াই করবো।’
উল্লেখ্য, পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের রাজনীতিবিদ এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেতা ও স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। কূটনীতিবিদ নেহরু ছিলেন একজন আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্ব। তার পিতা মতিলাল নেহেরু একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি ছিলেন। ব্রিটিশ ভারতের নামজাদা ব্যারিস্টার ও রাজনীতিবিদও ছিলেন। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেহেরু ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট স্বাধীন ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন। পরবর্তীকালে তার মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী ও দৌহিত্র রাজীব গান্ধী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

