আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম বড় মসজিদ নির্মাণ করতে যাচ্ছে আফ্রিকার দেশ আলজেরিয়া। দ্য দাজমা আল দাজাজায়ের নামে ওই মসজিদটিতে নির্মিত মিনারটি হবে বিশ্বের উচ্চতম মিনার। এর উচ্চতা হবে ২৬৫ মিটার। মসজিদটিতে একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবে এক লাখ ২০ হাজার মুসল্লি। এতে থাকবে ১০ লাখ বই সমৃদ্ধ একটি পাঠাগারও।
দ্য দাজমা আল দাজাজায়ের মসজিদটি ভবিষ্যতে আলহেজরিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র হতে পারে। উত্তর আফ্রিকার এই দেশটিতে ১৯৯০ সালে সরকার ও ইসলামপন্থী জঙ্গিদের মধ্যে গৃহযুদ্ধে দুই লাখ মানুষ নিহত হয়। এরপর থেকে প্রায় দুই দশক ধরে আলজেরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আল-কায়েদা ও অন্য জঙ্গি দলগুলো সক্রিয় রয়েছে। ইসলামের নামে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে একটি শিক্ষাকেন্দ্র হবে এটি।
এখানে কোরান শিক্ষা বিষয়ক একটি স্কুল ছাড়াও ইসলামের ইতিহাস ও শিল্পকলা বিষয়ক একটি জাদুঘর থাকবে। আলজেরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুতেফ্লিকার শাসনামলের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে দ্য দাজমা আল দাজাজায়ের। মসজিদটির নির্মাণকাজ পেয়েছে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান।
নির্মাণের সঙ্গে জড়িত আলজেরিয়ার গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আহমেদ মাদানি বলেন, ‘অনেকে একে চরমপন্থীদের মন্দির নির্মাণের সঙ্গে তুলনা করে আমাদের অভিযুক্ত করেছে। এটা আসলে চরমপন্থার বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ।’ ২০১৭ সালে মসজিদটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাদানি আরো বলেন, ১৯৬২ সালে মসজিদটি নির্মাণকাজের চিন্তা তার মাথায় আসে। ওই বছরই আলজেরিয়া ফ্রান্স থেকে আলাদা হয়েছিল। মাদানি বলেন, মুসলিম সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনস্ক বুতাফিকা ক্ষমতাসীন থাকায় মসজিদ নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া সহজ হয়েছে। নতুন এই মসজিদটি নির্মাণে ব্যয় হবে ১৪০ কোটি ডলার। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন হয়ে উঠবে বলে মনে করেন মাদানি।
প্রসঙ্গত, আলজেরিয়া উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকায় ভূমধ্যসাগরের তীরে অবস্থিত একটি রাষ্ট্র। দেশটির দশভাগের নয়ভাগ জুড়েই সাহারা মরুভূমির অবস্থান। সপ্তম শতকের শেষভাগে মুসলিমরা আলজেরিয়াসহ পুরো উত্তর আফ্রিকা জয় করে। এরপর সেখানে ইসলামের প্রসার ও আরবি ভাষার প্রচলন করে তারা।
বর্তমানে আলজেরিয়ার জনগণের প্রায় সবাই মুসলিম ও আরবিভাষী। দেশটিতে ফরাসি ভাষাও বহুল প্রচলিত। আলজেরিয়া উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৬২ সালে ইতিহাসের অন্যতম রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের আগ পর্যন্ত ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল।

