গাজীপুর প্রতিনিধি : জেলার কাশিমপুর কারাগারে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে দেখা করেছেন পরিবারের সদস্যরা। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে কারাগারের পার্ট-২-এ ৪০ নম্বর কনডেম সেলে নিজামীর সঙ্গে দেখা করতে অনুমতি দেয়া হয় তাদের।
ঘণ্টাখানেকের কিছু বেশি সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে সর্বোচ্চ দণ্ডপ্রাপ্ত নিজামীর সঙ্গে সময় কাটান পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে এ সময় মতিউর রহমান নিজামীর কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তা জানা যায়নি। কারা কর্তৃপক্ষ বলেছে, দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে তারা কারাগার থেকে বের হয়ে যান।
জামায়াত আমিরের স্ত্রী বেগম সামসুন্নাহার নিজামী, দুই ছেলে ব্যারিস্টার নজিব মোমেন, নাইমুর রহমান, মেয়ে খাদিজা মোহসীনা ও পুত্রবধূ সালেহা ও রাইয়ানসহ পরিবারের ৬ সদস্যকে কারাগারে ঢুকতে অনুমতি দেয়া হয়। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পুনর্মূল্যায়ন চেয়ে আপিল বিভাগের করা আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার একদিন পর বদর নেতা মতিউর রহমান নিজামীর সঙ্গে দেখা করলেন তার স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ একাত্তরের এ ঘাতকের সর্বশেষ আবেদন বাতিল করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রাখার সিদ্ধান্ত জানান। এতে মানবতাবিরোধী অপরাধে জামায়াতের সর্বোচ্চ এ নেতার আইনি সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়। অপেক্ষা এখন সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফাঁসিকাষ্ঠে নিয়ে যাওয়া।
ফাঁসি কার্যকরের আগে শুধুমাত্র একাত্তরের বদরপ্রধান নিজামীর সামনে এখন শুধু প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগ আছে রাষ্ট্রপতির কাছে। তিনি তা না চাইলে বা রাষ্ট্রপতির ক্ষমা না পেলে সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কারা কর্তৃপক্ষ জামায়াতের শীর্ষ এ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে। সেক্ষেত্রে দণ্ড কার্যকরের আগে আরো এক দফা নিজামীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ তার পরিবারের সদস্যরা।
একাত্তরের হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীকে প্রাণদণ্ড দেয়। গত ৬ জানুয়ারি আপিলের রায়েও ওই সাজা বহাল রাখা হলে রিভিউয়ের আবেদন করেন নিজামী।
জামায়াত আমির নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আলবদর বাহিনীর প্রধান।
মতিউর রহমান নিজামির পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বে গঠিত আলবদর বাহিনী স্বাধীনতার উষালগ্নে বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে। মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় তার বিরুদ্ধে আনিত এ অভিযোগ দীর্ঘ শুনানিতে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত নিজামিকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

