ঢাকাWednesday , 20 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রডের দাম ফের বৃদ্ধির আশঙ্কা

Link Copied!

rodনিউজ ডেস্ক : এক মাস ধরে দেশিয় বাজারে রডের দাম বাড়ছে। তবে এক সপ্তাহ ধরে মিল মালিকেরা রডের দাম কমালেও খুচরা বাজারে বাড়তি দরেই বেচাকেনা হচ্ছে। তবে বিলেট (রড প্রস্তুতের কাঁচামাল) আমদানিতে শুল্কহার বাড়ানো হলে রড়ের দাম ফের বেড়ে আশঙ্কা যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ অটো রি-রোলিং অ্যান্ড স্টিল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এসকে মাসাদুল আলম মাসুদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে রড উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম বেড়ে গেছে। ফলে, দেশে রড উৎপাদন খরচ বাড়ছে। এ কারণে কিছুদিন ধরে দেশে প্রতিটন রডে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকা। তবে গত এক সপ্তাহ আগে থেকে আবার প্রতিটন রডের দাম  কমেছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।
তিনি বলেন, আগামী ২০১৬-১৭ সালের বাজেটকে সামনে রেখে রাজস্ব বোর্ডে প্রাক-বাজেট আলোচনা চলছে। আমরা সরকারের কাছে বার বার অনুরোধ জানিয়ে আসছি, রড উৎপাদনের কাঁচামাল বিলেট আমদানিতে শুল্কহার কমিয়ে আনতে। কিন্তু সরকার তা বাড়াতে চায়। এছাড়া দেশে দুয়েকটি প্রতিষ্ঠান রড তৈরির কাঁচামাল বিলেট উৎপাদন করে। তবে তারা চাচ্ছে, আমদানি করা বিলেটের ওপর ডিউটি বাড়ানো হোক।
যদি সরকার আমদানি করা কাঁচামালের ওপর ডিউটি ফি বাড়িয়ে দেয়, তাহলে আবারও রডের দাম বাড়বে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) প্রতিটন বিলেট থেকে উৎপাদিত এমএস৬০ গ্রেড রড বিক্রি হচ্ছে, ৬৫ হাজার টাকা থেকে ৬৬ হাজার টাকায়, যা এক মাস আগে বিক্রি হতো ৫৫ থেকে ৫৬ হাজার টাকায়। এছাড়া স্ক্র্যাপ বা অন্যান্য কাঁচামাল থেকে উৎপাদিত এসএম৬০ গ্রেড রড বিক্রি হচ্ছে ৫৫ থেকে ৫৭ হাজার টাকায়। এমএস ৪০ গ্রেড রড বিক্রি হচ্ছে, ৪৫ থেকে ৪৭ হাজার টাকায়।
অপরদিকে, রডের দাম বাড়তি থাকলে নির্মাণ-শিল্প আবারও এক ধরনের মন্দায় পড়বে বলে জানিয়েছেন আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, এমনিতে আবাসন খাতের অবস্থা খুব বেশি ভালো যাচ্ছে না। ফ্ল্যাট কেনাবেচা খুব কম। আর এর মধ্যে যদি রডের দাম বেড়ে যায়, তাহলে নির্মাণ শিল্প আবারও হোঁচট খাবে বলে মনে করছেন তারা।
এ সম্পর্কে আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) সহসভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান  বলেন, অনেক প্রতিকূল অবস্থা থেকে আবাসন শিল্প চাঙ্গা হওয়ার চেষ্টা করছে। এই মুহূর্তে কোনো অজুহাতে যদি রডের দাম বাড়ানো হয়, তাহলে আবাসন শিল্প আবারও হোঁচট খাবে। তাই, কোনো অজুহাতেই রডের দাম বাড়ানো উচিত হবে না।
এছাড়া রডের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কমেছে বলে জানিয়েছেন, রড ব্যবসায়ীরা। রাজধানীর একাধিক এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রডের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে আগের চেয়ে বিক্রি অনেকটাই কমে গেছে। তবে রি-রোলিং মিলে দাম কমলেও খুচরা দাম কমানো হয়নি কেন, জানতে চাইলে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে কমলেও আমাদের কাছে স্টকে থাকা রড বেশি দামে কেনা। তাই, আগের কেনা রড বিক্রি শেষ হলে খুচরা বাজারে দাম কমবে।
মুগদা এলাকার রড সিমেন্ট বিক্রেতা মো. রাকিব হোসেন জানান, গত একমাস আগে প্রতিটন এমএস৬০ গ্রেড রডের দাম ৪৪-৪৬ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫-৫৭ হাজার টাকা। এছাড়া এমএস৪০ গ্রেড রড ৩৯-৪০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ থেকে ৪৭ হাজার টাকাঁ। তবে গত সপ্তাহে রডের দাম সামান্য কমেছে। কিন্তু আমাদের হাতে যে রড বেশি দামে কেনা আছে, তা বিক্রি শেষ হলে খুচরা কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের (বিএসআরএম) চেয়ারম্যান আলীহোসেন আকবর আলী বলেন, বিলেট (রড উৎপাদনের কাঁচামাল) আমদানি করে আমরা রড উৎপাদন করি। আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ প্রতিটন বিলেটের দাম ৮০ থেকে ১০০ ডলার বেড়েছে। আর এ কারণে দেশে রডের দামও বেড়েছে।
আগামী বাজেটে যদি আমদানি করা বিলেটের ওপর শুল্কহার বাড়ানো হয়, তাহলে রডের দাম আরো বাড়বে বলে মনে করছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানি করা বিলেটের ওপর ডিউটি বাড়ানোর পক্ষে-বিপক্ষে দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর এ কারণে প্রাক-বাজেট আলোচনায় রি-রোলিং ব্যবসায়ীরা তাদের বাজেট প্রস্তাবনা রাজস্ব বোর্ডেকে দিতে পারেননি। বিবদমান দুটি গ্রুপকে ঐক্যমতে পৌঁছাতে মঙ্গলবার এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদকে দায়িত্ব দিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। তিনি দুটি গ্রুপকে নিয়ে আগামী ২৫ তারিখ ফেডারেশন ভবনে বৈঠক করবেন। আর সেই বেঠকের পর প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনা জমা দেবেন রি রোলিং মিলস মালিকরা। আর তখন বোঝা যাবে, রডের ওপর ডিউটি ফি কত টাকা নির্ধারণের পক্ষে ব্যবসায়ীরা। আর তা থেকে বোঝা যাবে, রডের দাম কতটা বাড়বে বা কমবে।