ঢাকাWednesday , 20 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাঘববোয়ালদের নাম গোপন করেছিলেন দেগুইতো

Link Copied!

deguitoনিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা চুরির সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের নাম গোপন রাখতে সিনেট কমিটির শুনানিতে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মাইয়া সান্তোস দেগুইতো সে কথা স্বীকার করেছেন। রিজার্ভ চুরি নিয়ে সিনেট কমিটির এটি ছিল ষষ্ঠ দফা শুনানি।
শুনানিতে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারি প্রতিষ্ঠান ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশনের মেসেঞ্জার মার্ক পালমার্স, রিজাল ব্যাংকের জুপিটার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক সান্তোস দেগুইতো বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশনের চেয়ারম্যান সালুদ বাতিস্তারও।
মঙ্গলবার (১৯ এপ্রিল) সিনেট কমিটির শুনাতিতে দেগুইতো বলেন, ক্যাসিনো জাংকেট অপারেটর কিম অংয়ের অনুরোধে ওই শাখায় চার ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো টাকা সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিংয়ের মালিক ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো’র অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেন। ওই চার অ্যাকাউন্ট হোল্ডার হলেন, মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রজ, জেসি ক্রিস্টোফার লাগ্রোসাস, এররিকো তিয়োদোরো ভাসকুইজ এবং আলপ্রেড সানতোস ভারগারা। ভুল তথ্যে ওই চার ব্যবসায়ীর নামে জুপিটার শাখায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে। ওই চার ব্যবসায়ীর অ্যাকাউন্টে পুরো টাকা কিম অং কেন স্থানান্তর করতে অনুরোধ করেছিলেন তা তার (দেগুইতোর) জানা নেই বলে উল্লেখ করেন দেগুইতো।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে রিজার্ভ চুরি এবং তা ফিলিপাইনে পাঠানোর অন্যতম পরিকল্পনাকারি হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে ক্যাসিনো জাংকেট কিম অংকে। রিজার্ভ চুরিতে কিম অংয়ের সহযোগি হিসেবে সন্দেহের তালিকায় রয়েছে দুই চীনা ব্যবসায়ী দুই চীনা নাগরিক শুহুয়া গাও, দিং জিজি। বিশ্বে ব্যাংক লোপাটের ইতিহাসের তোলপাড় তোলা এ ঘটনায় জড়িত অন্যতম এ দুই সন্দেহভাজন চীনা নাগরিক এখন পলাতক।
দেগুইতো আরো বলেন, চার অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে অ্যাকাউন্ট খুলতে পরিচিতিসগ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন কিম অং। এমনকি এ চার অ্যাকাউন্টের লেনদেন এবং স্থিতি সম্পর্কে তাকে সময়ে সময়ে জানানোরও অনুরোধ করেন কিম অং।
শুনানিতে উপস্থিত আরসিবিসি ব্যাংকের আইন উপদেষ্টা মারিয়া সেলিয়া এসতাভিলো ব্যাংকটির সাবেক এ শাখা ব্যবস্থাপকের বক্তব্য সত্য নয়  জানিয়ে বলেন, দেগুইতো তার এ বক্তব্যে স্বপক্ষে কোন তথ্য-প্রমাণ দেখাতে পারবেন না। আরসিবিসি’র আইন উপদেষ্টা বলেন, ব্যাংকের কাছে দেগুইতোর দেয়া চিঠি রয়েছে। ওই চিঠিতে তিনি জানিয়েছিলেন যে, উইলিয়াম গো’র কাছে হস্তান্তর করতে বলেছেন লাগ্রোসাস।
সিনেট কমিটির সদস্য সার্জিও ওসমেনা এসময় দেগুইতোর কাছে জানতে চান কেন তিনি (দেগুইতো) অসত্য তথ্য দিয়েছেন জানতে চাইলে রিজাল ব্যাংকের সাবেক এ শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, আইনজীবীর পরামর্শে।
টাকা অন্যদের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরে নির্দেশক হিসেবে ক্যাসিনো জাংকেট কিম অংয়ের নাম আড়াল করতে লাগ্রোসের নাম বলেছেন কি না জানতে চাইলে দেগুইতো হ্যাঁ সুচক জবাব দেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তুলে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ টাকার ৮১ মিলিয়ন ডলার যায় ফিলিপাইনের রিজাল ব্যাংকের মাকাতি সিটির জুপিটার শাখায় ক্যাসিনো জাংকেট কিম অংয়ের অ্যাকাউন্টে।
বাকি ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা শালিকা ফাউন্ডেশনের অ্যাকাউন্টে। প্রাপক সংস্থার নামের বানানে ভুল থাকায় ওই টাকার পেমেন্ট আটকে দেয় ব্যাংক কর্মকর্তারা।