ঢাকাTuesday , 19 April 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সুন্দরবনে নাশকতা ঠেকাতে ‘ফায়ার ওয়াচার টিম’

Link Copied!

sundarbonবাগেরহাট প্রতিনিধি : সুন্দরবনকে আর যাতে নাশকতার আগুনে পুড়তে না হয় সেজন্য ৫টি ‘ফায়ার ওয়াচার টিম’ গঠন করেছে বন বিভাগ। এই ফায়ার ওয়াচার টিমগুলো নাশকতা রোধে সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকি ও টহল দেবে।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশনের নাংলী ফরেস্ট ক্যাম্পের আব্দুল্লার ছিলার গহীন অরণ্যে সোমবার ভোরে পরিকল্পিতভাবে ধরিয়ে দেয়া আগুন সন্ধ্যায় নিভে গেলেও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এক একর বনাঞ্চল।
মঙ্গরবার সকালে চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) বেলায়েত হোসেনকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য চাদঁপাই স্টেশন কর্মকর্তা গাজী মতিয়ার রহমান ও ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ আগ্নিকাণ্ডের স্থান পরিদর্শন করে তদন্তের কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে, সুন্দরবনে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়ার মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৬ আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে শরণখোলা থানা পুলিশ।
মাত্র ৪ দিনের মধ্যে একই স্থানে দ্বিতীয় বার আগুনের ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতা দাবি করেছে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৩ এপ্রিল একই এলাকার বনে চোরাইপথে মাছ চাষ করার জন্য যারা পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল তাদের ৬ জনকে শনাক্ত করে রোববার আদালতে নাম করে মামলা করায় বিচারক আসামিদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ৬ আসামি বা তাদের অনুসারিরা পরিকল্পিতভাবে আবারও সুন্দরবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। প্রথমিক তদন্তে তারা এ বিষয়ে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য পেয়েছে। এসব তথ্য আইন-শৃংখলা রক্ষা বাহিনীদের দেয়া হয়েছে। কথিত ইজারার নামে সুন্দরবনের বিলে অবৈধ্য মাছ চাষে বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারি জড়িত থাকলে তাদের কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
ডিএফও আরও জানান, সুন্দরবনকে আর যাতে নাশকতার আগুনে পুড়তে না হয় সেজন্য ৫টি ‘ফায়ার ওয়াচার টিম’ গঠন করেছে বন বিভাগ। এই ফায়ার ওয়াচার টিমগুলো নাশকতা রোধে সুন্দরবন সন্নিহিত এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকি ও টহল দেবে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আগুন লাগার কারণ ও আগুনে বনজ সম্পদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা চূড়ান্ত করে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ্ আলম মিয়া জানান, সুন্দরবনের বিলে মাছ চাষ করতে পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে নামকতা সৃষ্টিকারীদের আটকে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। সুন্দরবন বিভাগের দায়েরকৃত আগুন লাগিয়ে দেয়া মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ৬ আসামি উপজেলার রাজাপুর গ্রামের শাহ জাহান হাওলাদার ওরফে শাহজাহান শিকারী, আলআমীন হাওলাদার, ইউনুস হাওলাদার, সাহেব হাওলাদার, খলিল হাওলাদার ও ছগির হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাটে রয়েছে। আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।
সাংবাদিকদের কাছে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেয়া বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার একাধিক ব্যক্তি জানান, শরণখোলা উপজেলার উত্তর রাজাপুর এলাকার শাহজাহান শিকারীর নেতৃত্বে একটি মৎস্য শিকারি চক্র প্রতিবছর সুন্দরবনের কর্মকর্তাদের লাখ-লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে সুন্দরবনের কয়েকটি বিল অলিখিতভাবে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করে থাকে।
তিনি আরও জানান, মাছের বিল তৈরি করতে ওইসব বিলে জমে থাকা গাছের পাতা উঠিয়ে ও নিচু এলাকা পরিষ্কার করতে শুষ্ক মৌসুমে তারা সেগুলোতে আগুন লাগিয়ে বন পরিষ্কার করে থাকে। এরপর বর্ষা এলেই শুরু হয় ওই চক্রের মাছ ধরার উৎসব। কারেন্ট জাল পেতে তার সুন্দরবনের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করে অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নেয় কোটি কোটি টাকা।