ঢাকাSaturday , 26 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সক্ষম হয়েছে ট্রাইব্যুনাল

Link Copied!

tribunalনিজস্ব প্রতিবেদক : একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দুই শীর্ষ আলবদর ও জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী এবং মীর কাশেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর হবে বলেই প্রত্যাশা করছেন বিচার সংশ্লিষ্টরা। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিগত ছয় বছরের সফলতার বিষয়ে বলতে গিয়ে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। তাদের কারো কারো মতে, অনেক সীমাবদ্ধতার পরও প্রত্যাশার চেয়ে বিগত ছয় বছরে ট্রাইব্যুনালের প্রাপ্তি অনেক বেশি। এসব সীমাবদ্ধতা, প্রতিকূলতার পরও ট্রাইব্যুনাল এদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও ঐতিহাসিক অঙ্গীকার পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।
স্বাধীনতার পর তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ২০১০ সালে ২৫ মার্চ গঠন করে এ ট্রাইব্যুনাল। পরবর্তীতে মামলার সংখ্যা বেড়ে গেলে এবং তা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ২০১২ সালের ২২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ নামে আরও একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। শীর্ষ অপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাইব্যুনাল আবার পুনর্বিন্যাস করা হয়। তখন ট্রাইব্যুনাল-২ অকার্যকর করে ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখে সরকার। প্রয়োজনে আবারও তা কার্যকর করা হতে পারে বলেও জানানো হয় সরকারের তরফ থেকে।
বিগত ছয় বছরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মোট ২২ মামলায় ২৬ জনকে দণ্ড প্রদান করেছেন। এর মধ্যে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন, একজনের ৯০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ জনকে আমৃত্যু কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে ৫ জন এবং বিচার ও তদন্তাধীন মামলার ৬৭ জন পলাতক আসামি পলাতক রয়েছেন।
গত এক বছরের হিসাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে পাঁচটি মামলায় আটজনের রায় হয়েছে। য়ে চারজনকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও অন্য চারজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের দেওয়া প্রথম রায়ে চূড়ান্ত সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর। এরপর গত বছরের ১১ এপ্রিল কামারুজ্জামান এবং একই বছরের নভেম্বরে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হয়।
চলতি বছর ৮ মার্চ আলবদর নেতা মীর কাসেম আলীর আপিলের সংক্ষিপ্ত রায় ও ১৫ মার্চ নিজামীর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করে আপিল বিভাগ। মীর কাশেম আলীর বিরুদ্ধে দেওয়া সংক্ষিপ্ত রায় এবং মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
গত ২৩ মার্চ (বুধবার) ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ৩৮তম তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এদিন এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান বলেন, আমি মনে করি ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রথম থেকেই স্বাধীনভাবে কাজ করে আসছে এবং বিগত ছয় বছরে জাতির আকাঙ্ক্ষাকে পূরণ করতে পেরেছে। আগামী দিনেও জাতির আকাঙ্ক্ষা পূরণে আমরা আত্মপ্রত্যয়ী।
জানতে চাইলে প্রসিকিউটর রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ‘মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য যে ঐতিহাসিক অঙ্গীকার নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল ছয় বছর আগে, আমি মনে করি ট্রাইব্যুনাল সে অঙ্গীকার পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে।‘
তিনি বলেন, অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছি। ঐতিহাসিক দায় মোচন করতে পেরেছি।‘
ট্রাইব্যুনালের এ প্রসিকিউটর প্রত্যাশা করছেন, আগামী মাসের (এপ্রিল) মধ্যেই নিজামী ও মীর কাসেমের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হয়ে দণ্ডাদেশ কার্যকর হবে।
প্রসিকিউটর ড. তুরিন আফরোজও মনে করেন, ট্রাইব্যুনালের কাছে জাতির প্রত্যাশার চেয়ে বিগত ছয় বছরে প্রাপ্তি অনেক বেশি। জাতীয়-আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিকূল অবস্থা মোকাবেলা করেই ট্রাইব্যুনাল বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে পরাজিত করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করেছে। বিশ্বের কাছে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। যা বিভিন্ন সময় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা, ব্যক্তিরাও তাদের পর্যবেক্ষণে তুলে ধরেছেন।
সুষ্ঠু বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইনের নিজস্ব গতিতেই মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাসেম আলীর চূড়ান্ত রায় কার্যকর হবে, বলেন তুরিন আফরোজ।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা থেকে প্রসিকিউশনে ৮টি মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। এই আটটি মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়নি এখনও। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী, নোয়াখালীর সুধারামপুরের রাজাকার আমির আলীসহ পাঁচজন, কিশোরগঞ্জের নিকলীর সৈয়দ মুহম্মদ হুসাইন ও মোসলেম প্রধান, কক্সবাজারের সালাতমউল্লাহ খানসহ ১৯ জন, গাইবান্ধার ঘোড়ামারা আজিজসহ ৬ জন, হবিগঞ্জের লাখাইয়ের লিয়াকত আলীসহ তিনজন, নেত্রকোনার পূর্বধলার আবদুল মজিদসহ ছয়জন, মৌলভীবাজার রাজনগরের আকমল আলীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা। এ ছাড়াও তদন্ত শেষে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে ময়মনসিংহের এমপি জাতীয় পার্টির নেতা এমএ হান্নান, সাতক্ষীরার সাবেক এমপি জামায়াত নেতা আবদুল খালেক মণ্ডলসহ অন্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের মামলা।
এদিকে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের আরও ২৩টি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তাধীন এসব মামলায় সন্দেহভাজন আসামির সংখ্যা ৭২ জন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী (গিকা চৌধুরী), জামালপুরের আশরাফ হোসেন, নীলফামারীর সৈয়দপুরের ইজহার আহমেদ, কক্সবাজারের পেকুয়ার মহসীন হায়দার চৌধুরী ও অধ্যক্ষ তাহের শওকত, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার মো. রিয়াজউদ্দিন ফকির ও হাজি মো. আমজাদ আলী, মৌলভীবাজারের বড়লেখার রাজাকার আজিজ হাবলু, ময়মনসিংহ গফরগাঁয়ের আবুল ফালাহ মোহাম্মদ ফাইজুল্লাহ, গাইবান্ধা সুন্দরগঞ্জের আবু ছালেহ মো. আজিজ মিয়া ওরফে ঘোড়ামারা আজিজ, হবিগঞ্জের লাখাইয়ের লিয়াকত আলী, ব্রহ্মণবাড়িয়া সদরের সৈয়দ মোহাম্মদ হুসাইন, গোপালগঞ্জ কাশিয়ানী থানার সাধুহাটি গ্রামের এনায়েত হোসেন মোল্লাসহ ১১ জন, মুকসুদপুরের আবদুল জলিল শেখ, নোয়াখালীর সুধারামের রাজাকার আমির আলী, পটুয়াখালীর আয়নাল খাঁ ও গলাচিপার আশ্রাব আলী খান।
এ ছাড়াও কুমিল্লার খালেক মজুমদার, খুলনার আমজাদ মিনা, রাজশাহীর লাহার আলী শাহ, পটুয়াখালীর রুস্তম আলী সিকদার ও কিশোরগঞ্জের মো. নাসিরের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানায় তদন্ত সংস্থা।
এদিকে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে আরও আটটি মামলা। এসব মামলায় অভিযুক্ত ব্রাক্ষণবাড়িয়ার মোবারক হোসেন, হবিগঞ্জের জাতীয় পার্টির সৈয়দ মুহম্মদ কায়সার, এটিএম আজহারুল ইসলাম, আবদুস সুবহান, চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান মলি্লক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ও খান আকরাম, নেত্রকোনার নুরুজ্জামান ননী ও আবু তাহেরের আপিল আবেদন বর্তমানে পর্যায়ক্রমে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে ।
তদন্ত সংস্থায় এ পর্যন্ত ৩২২৯ আসামির বিরুদ্ধে সর্বমোট ৫৮৫টি অভিযোগ এসেছে। এই ৫৮৫টি অভিযোগ থেকে পর্যায়ক্রমে মামলা তদন্ত করা হচ্ছে।