ঢাকাTuesday , 15 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অপদখলের কারণে মৃতপ্রায় মুজিবনগরের প্রধান খাল সরস্বতী

Link Copied!

khalমেহেরপুর প্রতিনিধি : অপদখলের কারণে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার প্রধান খাল সরস্বতী এখন মৃতপ্রায়। কিছু এলাকায় প্রভাবশালীরা মাছ চাষ করলেও সরকারি কোষাগারে কোনো রাজস্ব যাচ্ছে না। উল্টো খালে প্রবেশাধিকার হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্নভাবে দখলের কারণে বর্ষা মৌসুমে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ফসলহানির ঘটনা চলে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরেই।
মুজিবনগর উপজেলা শহর কেদারগঞ্জ বাজারের বুক চিরে বয়ে গেছে সরস্বতী খাল। কেদারদঞ্জ বাজারের পশ্চিম-উত্তর দিকে নাগার বিল। বিলের পরেই ভারতীয় সীমান্ত। খালটি নাগারবিল থেকে শুরু হয়ে নাজিরাকোনা, সোনাপুর, মাঝপাড়া, ভবরপাড়া, কেদারগঞ্জ, মানিকনগর ও বল্লভপুর গ্রাম হয়ে বাগোয়ান গ্রামে গিয়ে শেষ হয়েছে। প্রায় এক থেকে দেড়শ বছর আগে খালের শেষ মাথা বাগোয়ান গ্রাম হয়ে তারানগর-জয়পুর হয়ে ভারতের হাটখোলায় দিয়ে একটি নদীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল বলে জানান এলাকার বয়োবৃদ্ধরা।
দীর্ঘ এই খাল শুষ্ক মৌসুমে শুকিয়ে যাওয়ায় এলাকার প্রভাবশালীরা দখল করে এখন ধান চাষ করছেন। কিছু কিছু স্থানে বাঁধ দিয়ে পানি জমিয়ে মাছ চাষ করছেন কিছু ব্যক্তি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা থেকে ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের মাছ চাষীরা বুঝিয়ে দিলেও বাস্তবে তা উল্টো।
মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাছ চাষের জন্য খাল কাউকেই ইজারা দেয়া হয়নি। কাগজপত্রে এটি একটি উন্মুক্ত খাল হিসেবে বিবেচিত। মাছ চাষ বাবদ সরকারি কোষাগারে কোনো রাজস্ব জমা নেয়া হয় না।
সরস্বতী খালের বাগোয়ান ও নাজিরাকোনা অংশে বাগোয়ান ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহসান আলী ও সাধারণ সম্পাদক মানিকনগর গ্রামের ফিতাজ মল্লিক, ভবেরপাড়া গ্রামের অংশে একই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি দিলিপ মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক রুস্তত আলী ইজারা নিয়েছেন বলে দাবি করেন। তারা এলাকায় মৎস্য চাষীদের জন্য এক বছরের জন্য প্রায় ১২ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন।
এ প্রসঙ্গে মাছচাষী নাজিরাকোনা গ্রামের ফরতুল্লাহ জানান, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সম্পাদকদের কাছ থেকে মানিকনগর ও নাজিরাকোনা গ্রামের খালের অংশ তিনি এক বছর মাছ চাষের জন্য ৮ লাখ টাকায় কিনে নিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ফিতাজ মণ্ডল জানান, তিনি দুই লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন। উপর মহলের অনেকের কাছ থেকে টাকা দিয়ে তিনি খালের মালিকানা পেয়েছেন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেমায়েত উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খালে মাছ চাষের বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এর আগে দুবার বাঁধ কেটে দেয়া হয়েছিল। আবারো সেই প্রক্রিয়া চলছে। তবে মাছ চাষের জন্য ইজারা দেয়া গেলে সরকার রাজস্ব পাবে। সেজন্য প্রচেষ্টা চালানো হবে।’
নাগার বিল এ উপজেলার বড় আবাদি মাঠ হিসেবে পরিচিত। গত বছর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় নাগার বিলের প্রায় অর্ধশত হেক্টর জমির ফসল বন্যায় বিনষ্ট হয়ে যায়। তাছাড়া কেদারগঞ্জ বাজার থেকে নাজিরাকোনা ও মানিকনগর গ্রামে যাওয়ার একমাত্র সড়কটি এ খালের পাড় দিয়ে নির্মিত। যার দূরত্ব প্রায় ৪ কিলোমিটার। দীর্ঘদিন পর সরস্বতী খাল পানিতে ভরে থাকায় দু’পাড়ের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন ধরে গত বছর। ভেঙে পড়ে ছোট বড় প্রায় চার শতাধিক গাছপালা।
কেদারগঞ্জ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামসহ ব্যবসায়ীরা জানান, খালের জমি দখর করে দোকানপাট নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে খালটি। প্রভাবশালীদের বিভিন্নভাবে দখলের কারণে খালটি বিলীন হতে চলেছে। খালে মাছ ধরা, গবাদিপশুর গোসলসহ পাট জাগ দিতে সাধারণ মানুষের কোনো অধিকার নেই। ফলে সময়ের সৌভাগ্য বয়ে আনা খালটি এখন সাধারণ মানুষের কাছে অভিশাপ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
বাগোয়ান ইউপি চেয়ারম্যান আয়ুব হোসেন জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে জেলার সব চেয়ে বড় নদী ভৈরব নদ খনন হচ্ছে। এতে জেলার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে। সরস্বতী খালটি পুনঃখনন করা গেলে বাংলাদেশর সূর্যদোয় ভূমি মুজিবনগর উপজেলার জনগণের জীবন মানের উন্নতি হবে। অনতিবিলম্বে খালটির দখলমুক্ত করে পুনঃখনন দাবি করেন তিনি।