পাবনা প্রতিনিধি : অবশেষে দীর্ঘ ৮ বছর আন্দোলনের পর অস্তিত্ব হারাতে বসা পাবনার চাটমোহরে বড়াল নদীর বুকে প্রাণ সঞ্চারের কাজ শুরু হল। বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) চাটমোহরের নুরনগরে পাউবোর নির্মিত ক্রসবাঁধ ও অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে বড়াল নদ চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রেজাউল করিম স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বাঁধ অপসারণের কাজ উদ্বোধন করেন। পরে পাউবোর নিয়োগকৃত শ্রমিকরা মাটি কেটে বাঁধ অপসারণ শুরু করে। এ সময় বড়াল রক্ষা আন্দোলন কমিটির সদস্য সচিব এসএম মিজানুর রহমান, চাটমোহর উপজেলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বেলাল হোসেন স্বপন, মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ শরীফ মাহমুদ সঞ্জুসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অন্যান্য কর্মকর্তা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিন পর বড়াল নদী চালুর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় নদীপাড়ের মানুষদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। তারা সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা বড়াল নদীর সকল বাঁধ ও স্লুইসগেট অপসারণের মধ্যে দিয়ে নদী তীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, জীববৈচিত্র ও হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে।
রাজশাহীর চারঘাট থেকে শুরু হয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি পর্যন্ত ৪টি জেলা ও ৮টি উপজেলার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত বড়াল নদীর দৈর্ঘ্য ২২০ কিলোমিটার। এই নদীর সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত চলনবিল অঞ্চলের কমপক্ষে ৫০ লাখ মানুষের জনজীবন। নদীর বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে ৩টি স্লুইসগেট ও ৪টি বাঁধ দিয়ে এবং পাড় দখল করে মেরা ফেলা হয়েছে বড়াল নদীকে।
বড়াল নদী রক্ষায় ২০০৮ সাল থেকে আন্দোলন শুরু করে নদীপাড়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর সকল বাঁধা অপসারণ করে নদী সচল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করে নদী বিষয়ক টাস্কফোর্স।

