নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী বলেছেন, ‘যেকোনো সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী শক্তিই দেশের স্বাধীনতা ও নারী অধিকারের বিরোধী। সন্ত্রাসী ও মৌলবাদীরা গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার শত্রু। আমরা যদি এসব শত্রুকে চিহ্নিত করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে এগিয়ে যেতে পারি তবে ওয়াহিদুল হকের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে।’
শাহবাগে কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে দুদিনব্যাপী ওয়াহিদুল হক স্মারণিক মিলনোৎসবের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ওয়াহিদুল হক সাংবাদিকতায় যেমন একটি বিশেষ দিকের উন্মোচন করেছেন, তেমনি সংস্কৃতি জগতেও তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি কখনও নিজের নীতির সাথে আপোষ করেননি। তার বাহ্যিক অবয়ব সাধারণ মনে হলেও তিনি ছিলেন উচ্চ পর্যায়ের একজন মানুষ।’
তিনি আরো বলেন, ‘ওয়াহিদুল হক তার ছাত্র-ছাত্রীদের সব সময় আদর্শ নাগরিক ও উন্নত মানুষ হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করতেন। স্বাধীনতার ইতিহাসে তার সাহসিকতা উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।’
ওয়াহিদুল হক নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ওয়াহিদুল হক মানেই কণ্ঠশীলন, কণ্ঠশীলন মানেই ওয়াহিদুল হক। তার দেয়া দীক্ষা নিয়েই নতুনধারার সংস্কৃতি প্রচার ও প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে কণ্ঠশীলন।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ বলেন, ‘বাকচর্চাঙ্গণে কণ্ঠশীলন যে কাজ শুরু করেছিল তা আজ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে আজ আবৃত্তির যে বিস্তৃতি তার মূলেই কণ্ঠশীলন এবং ওয়াহিদুল হক।’
কণ্ঠশীলন শুধু আবৃত্তি অঙ্গণে নয় বরং শিল্পাঙ্গণেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে- এ মন্তব্য করে গোলাম কুদ্দুস আরও বলেন, ‘তৃণমূল থেকে আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে আনতে হবে এবং রাষ্ট্রে সংস্কৃতির নানমুখি ক্ষেত্রকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করতে হবে।’
কণ্ঠশীলন সভাপতি আহমাদুল হাসান হাসনুর সভাপতিত্বে ও কণ্ঠশীলন প্রশিক্ষক ও নির্দেশক গোলাম সারোয়ারের উপস্থাপনায় উৎসবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্কাম উল্লাহ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, জাতীয় কবিতা পরিষদের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাবিবুল্লাহ সিরাজী এবং বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ফকির আলমগীর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব আহ্বায়ক মীর বরকত।

