ঢাকাSunday , 6 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অরণীর শরীরে প্রায়ই আঘাতের চিহ্ন দেখা যেত

Link Copied!

mahfujaনিজস্ব প্রতিবেদক : অরণী ছিল স্কুলের বেশ চঞ্চল একটা মেয়ে। সবার সঙ্গে হেসে কথা বলতো সে। কিন্তু বেশ কিছুদিন থেকে অনেক চুপচাপ ছিল। সম্প্রতি তার গায়ে প্রায়ই আঘাতের চিহ্ন দেখা যেত। অরণীর কাছে জানতে চাইলে বলতো, ভালো পড়ালেখার জন্য তার মা তাকে মারধর করতো।
রাজধানীর বনশ্রীতে মায়ের হাতে খুন হওয়া অরণীর সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। লেখাপড়া ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে রাজধানীর বনশ্রীতে দুই সন্তানকে খুন করেছেন মা মাহফুজা মালেক জেসমিন। র‌্যাব ও পুলিশের কাছে দেয়া স্বীকারোক্তিতে এমনটাই বলেছেন তিনি। কিন্তু ‘ঘাতক’ মায়ের এমন দাবি মিলছে না অরণীর শিক্ষক ও সহপাঠিদের বক্তব্যের সঙ্গে। তারা বলছেন, অরণী ও আলভি দুজনেই পড়াশোনায় বেশ মনযোগীই ছিল। পাশাপাশি সৃজনশীল কাজেও হাত ছিল তাদের, অরণী ছবিও আঁকতো ভালো।
নিহত অরণীর সবচেয়ে কাছের সহপাঠী, বান্ধবী ও ভিকারুন-নুন-নিসা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নাফিসা তাবাসুম সামিয়া জানালো তার স্বপ্নের কথাও। প্রায় প্রতিদিন ক্লাসের ফাঁকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বন্ধুরা গল্প করতো। অরণী বলতো, তার স্বপ্ন ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করার।
অরণীর অপর বান্ধবী বানু আক্তার দোলা জানায়, স্কুলের সব চাইতে কাছের বন্ধু ছিলো সে ও সামিয়া। মৃত্যুর আগের দিন (২৮ ফেব্রুয়ারি) অরণীর চোখ অনেক লাল দেখে সহপাঠীরা তার কারণ জানতে চায়। অরণি ভিন্ন কিছু বলে পাশ কাটিয়ে যায়। বলেছিল, ডাক্তার দেখিয়েছে। ডাক্তার ড্রপ দিয়েছে। এছাড়া পড়া দিতে না পড়ায় তার মা গলা টিপে ধরেছিলো বলেও তাদের দুই বান্ধবীকে অরণি বলেছিলো। ওই সময় এ বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য জন্য তাদের অনুরোধ জানিয়েছিল।
দোলা আরো জানায়, ‘প্রথম শ্রেণী থেকেই তারা একসঙ্গে পড়াশোনা করছে। অরণি সবসময় সেরা দশে থাকতো। তার পড়াশোনায় অমনোযোগী হওয়ার কথা বিশ্বাসযোগ্য নয়।’
অরণির আরেক সহপাঠী বলেছে, ‘অরণী অনেক মেধাবী ছিল। তার সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীই পেরে উঠত না। বিশেষ করে অংকে এবং ইংরেজিতে অনেক দক্ষ ছি সে। স্কুলের ম্যাডামরা সবাই তাকে অনেক স্নেহ করতেন। ও ছিল আমার সেরা বান্ধবী। ওকে হারিয়ে আমিও দিশেহারা।’
অরণির সহপাঠী সুবাইয়া মেহেজাবিনের অভিভাবক নাহার মেহেজাবিন বলেন, মাঝে মধ্যে স্কুলে এসে অরণির আম্মা বাসায় নিয়ে যেত। স্কুলে অরণির আম্মার সঙ্গে তার প্রায় কথা হতো। ওই সময় অরণীর আম্মু অভিযোগ করতেন, কিছুদিন থেকে অরণি পড়ালেখায় অমনোযোগী হয়ে পড়ছে। এতে তিনি অনেক চিন্তিত বলেও জানিয়েছিলেন। কিছু একটা করা দরকার বলেও জানিয়েছিলেন।
‘অরণী অনেক ভাল মেয়ে ছিল। পড়ালেখায় অনেক মনোযোগ ছিল তার। ক্লাসের পড়া নিয়মিতই শেষ করতো। পরীক্ষাতেও ভাল নম্বর পেত। উপস্থিতিও ছিল ভাল। তার পড়াশোনা নিয়ে এত চিন্তার কিছু ছিল না।’ অরণীর স্কুলের শিক্ষিকা সালেহা বেগমও বললেন এমন কথা।
বলতে বলতে ভিজে ওঠে তার দুচোখ। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আবার বলতে থাকেন, ‘তার মুত্যুর এক সপ্তাহ আগে থেকে তাকে অন্যরকম মনে হতো। অনেক চুপচাপ থাকতো। একদিন তার চোখ অনেক লাল দেখে ক্লসের মেয়েরা বলাবলি করছিল। আমি কারণ জানতে চাইলে সে বলেছিল, চোখে আঘাত পাওয়ায় লাল হয়ে গেছে। গত সোমবার তার মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর আমি মর্মাহত হয়ে গেছি। ক্লাসের হাজিরা খাতায় তার নামটি দেখলে এখনো আমার মনে হয় সে ক্লাসেই আছে।’
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি বনশ্রীর ৪ নম্বর রোডের ৯ নম্বর বাড়ির পঞ্চম তলার ফ্লাটে দুই ভাই-বোন ভিকারুন-নিসা-নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিদ্ধেশ্বরী শাখার মনিং শিফটের সি গ্রুপের পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান অরণি (১৪) ও হলি ক্রিসেন্ট ইন্টান্যাশনাল স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী আলভি আমানের (৬) মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। প্রথমে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় মৃত্যুর কথা বলা হলেও লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শ্বাসরোধে খুনের আলামত পাওয়া যায়। এরপর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মা স্বীকার করেন ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে তিনি নিজের দুই সন্তানকে খুন করেছেন। আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মা মাহফুজা ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
এদিকে রামপুরার বনশ্রীর আলভীর স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুলের প্রধান ফটকের সামনে আলভীর ছবি সম্বলিত শোকবার্তা টানানো হয়েছে। স্কুলটির শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আলভী খুব ভাল ছাত্র ছিল। স্কুলে নিয়মিত যেত। ভাল নম্বর পেয়ে প্লে থেকে নার্সারী শ্রেণীতে উঠেছিল।
পড়ালেখা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকে নাকি অন্য কোনো কারণে নিজের দুই সন্তানকে খুন করেছেন মা মাহফুজা আমান জেসমিন। এতো সামান্য কারণে লোমহর্ষক এ খুন করা হয়েছে তা অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন অনেকে। তাদের মতে, এ খুনের পেছনে অন্য কোন কারণ রয়েছে। এছাড়া অন্য কেউ দুই শিশু খুনে তাদের মা মাহফুজা আমান জেসমিনকে সহায়তা করেছে কি না তাও খতিয়ে দেখা দরকার। মাহফুজা একাই নিজের দুই সন্তানকে খুন করতে পারার কথা নয় বলেও মনে করা হচ্ছে।