ঢাকাSaturday , 5 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সিন্ডিকেটে ধরাশায়ী বান্দরবানের আদিবাসীরা

Link Copied!

bandarbonবান্দরবান প্রতিনিধি : বিপুল সম্ভাবনাময় পাহাড়ি জনপথ পার্বত্য জেলা বান্দরবান। ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে ফল চাষে ঝুঁকেছে জেলার ৭টি উপজেলার ১৩টি নৃগোষ্ঠীসহ প্রায় ৪ হাজার আদিবাসী।
যেহেতু এর ভূমি আম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, কমলা, মাল্টাসহ বিভিন্ন ফলের আবাদের জন্য উপযোগী, সেহেতু লাগসই প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব ফল আবাদ সম্প্রসারণের নজর দিচ্ছে আদীবাসী কৃষকরা। কৃষি ফসলের আবাদ পাহাড়ি এলাকায় বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম হলেও নতুন করে ফলের আবাদ বাড়ছে।
জেলা সদর থেকে ৫২ কিলোমিটার দূরে নীলগিরি পাহাড়ে যেতে সরু রাস্তার এপাশ ওপাশের পাহাড়গুলো শোভা পাচ্ছে এসব ফলের বাগান। পাহাড়ের তলা থেকে চূড়া পর্যন্ত আম, কলা, আনারস, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলগাছে ছেয়ে গেছে এসব পাহাড়।
শুধু নীলগিরিই নয়, নীলাচল পর্যটন কেন্দ্র, বগালেক, রিজুক ঝর্না, শৈলপ্রপাত, সাঙ্গু নদী, স্বর্ণমন্দিরসহ সব পর্যটন কেন্দ্রে যেতেই এসব ফলের বাগান চোখে পড়ার মতো। সবুজের সমারোহ হাতছানি দিয়ে ডাকছে এখানে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান পার্বত্য জেলার এসব পর্যটন কেন্দ্র ঘুরে, আদিবাসী, স্থানীয় কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব চিত্র পাওয়া গেছে।
চলতি মৌসুমে ৪৭ লাখ ৩৩ হাজার ২৪১ মেট্রিক টন এসব জাতের ফল উৎপাদনের টার্গেট নিয়ে ২৫ হাজার ৫৩৩ হেক্টর পাহাড়ি জমিতে ফলের আবাদ করা হয়েছে। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে স্থানীয়দের ফলের চাহিদা পূরণ করে পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করতে পারবে বলে কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন এবং পাহাড়ি জনপদে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটবে বলে স্থানীয়দের অভিমত।
বান্দরবান কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ৪ হাজার ৫১৮ হেক্টর আম চাষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭৬ হাজার ৮০৬ মেট্রিক টন, ৬ হাজার হেক্টর পেঁপে চাষের উৎপাদন ১ লাখ ৩২ হাজার মেট্রিক টন, ৭ হাজার ৭৮০ হেক্টর কলা আবাদে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন, ২ হাজার ৬০ হেক্টর কমলা চাষের উৎপাদন ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন, ৪ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে আনারস চাষের উৎপাদন ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৭৭৫ মেট্রিক টন, ৩০০ হেক্টর মাল্টা চাষে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন, ৩০০ হেক্টর কাজু বাদাম চাষের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০০ মেট্রিক টন।
এ ছাড়া পার্বত্য জনপদ বান্দরবানের ১ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে স্থায়ী উন্নত আদা চাষে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৫ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন, ১ হাজার ৮৩৭ হেক্টর হলুদ চাষে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৬ হাজার ৫৬০ মেট্রিক টন।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আলতাফ হোসেন বলেছেন, সীমিত জমিতে হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধির কলাকৌশল প্রয়োগসহ ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তদুপরি কৃষির উন্নত ও লাগসই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে হেক্টর প্রতি ফলন বৃদ্ধি ও ফসল আবাদ বৃদ্ধির অব্যহত প্রয়াস চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে যেহেতু এখানকার ভূ-প্রকৃতি, আবহাওয়া ও জলবায়ু ফল বিশেষ করে আম, কাঁঠাল, কলা, আনারস, কমলা ইত্যাদি ফসল চাষের জন্য উপযোগী, সেহেতু লাগসই প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ফসল আবাদ সম্প্রসারণের নজর দেওয়া হচ্ছে।
রশিদ আহমদ নামে বান্দরবান জেলা সদরের এক বাসিন্দা জানান, পাহাড়ি জনপদে ফলের বিপুল সম্ভাবনা থাকার পরেও আদিবাসী কৃষক এসব ফলের ন্যায্যমূল্য পায় না। বিভিন্ন জাতের ফল থেকে শুরু করে সবজির বাম্পার ফলন হলেও দাম না পাওয়ায় অনেকেই হতাশ। এদিকে সিন্ডিকেটের কারণে জেলা সদরসহ ৭টি উপজেলায় এসব ফল ও সবজি বিক্রি করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আদিবাসীদের ।
তিনি বলেন, বান্দরবানে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত প্রচুর পরিমাণ ফল ও সবজি নিয়ে চাষিরা চরম সঙ্কটে পড়ে যায়। চাষিদের মতে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বিশেষ করে সবজির মধ্যে শিমের উৎপাদন ভালো হয়েছে।
নীলগিরি এলাকার আদিবাসী উনাই চং জানান, উন্নত ও লাগসই প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সকল কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সর্বাত্মক চেষ্টা করলে এই জেলায় কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। তবে ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
থানছি এলাকার বাসিন্দা বলাই চাকমা জানান, স্থানীয় কৃষকরা পাহাড়ে ভালো জাতের ফল ও সবজি আবাদ করে। ফলনও ভালো হয়, কিন্তু কখনওই সঠিক মূল্য পায় না এসব কৃষক। সবই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের দখলে চলে যায়।
রুমা উপজেলা শহড়ের বাসিন্দা রতন মল্লিক জানান, গত শীত মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বিশেষ করে সবজির মধ্যে শিমের উৎপাদন ভালো হয়েছে।
মৌসুমের শুরুতে শিমের দামও ভালো ছিল। কিন্তু হঠাৎ শিমের দাম কমে যাওয়ায় পরিবহন খরচ দিয়ে জেলার বাইরে নিয়ে বিক্রি করে লাভের চেয়ে লোকসান গুণতে হয়। যে কারণে চাষিরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন চাষিরা। এতে উৎপাদন খরচও উঠবে কি-না তা নিয়েও চাষিরা শঙ্কা প্রকাশ করেন।
চাষিদের মতে, প্রতিবছর শীত মৌসুমে স্থানীয় বাজারে প্রতিকেজি শিম ৪০/৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এ বছর ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে কেজি ১০/১২ টাকা দরে বিক্রি করতে হয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের চেয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন শিম উৎপাদন বেড়েছে বান্দরবানে। বিগত বছর ৪৮১ হেক্টর জমিতে শিম উৎপাদন হয়েছিল ছিল ৬ হাজার ৮১৯ মেট্রিক টন। এবার ৪৯৫ হেক্টর জমিতে প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন শিম উৎপাদন হয়।
কৃষি বিভাগ আরও জানায়, বান্দরবানে যেই পরিমাণ শিম উৎপাদন হয়েছে স্থানীয় বাজারগুলোর চাহিদা মিটিয়ে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায় সরববরাহ করা হচ্ছে। কৃষকরা লাভজনক হিসেবে এবং ফলনের উৎপাদন আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে, বিশেষ করে আইপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে যাচ্ছে।
বান্দরবান সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, চাষিরা বার্মিজ কম্পোস্ট সার ব্যবহার করার ফলে শিমের ভালো ফলন হয়েছে। ওই সার মাটিকে ঠান্ডা রাখে, গাছের শিকড়কে মাটি থেকে পানি ও খাদ্য সংগ্রহ করতে সহযোগিতা করে। তার মতে, আগের বছর তামাক চাষে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া চাষিরা তামাক ছেড়ে এবার পাহাড়ের ঢালু আর বিস্তীর্ণ জমিতে শিম চাষ করেছেন।