ঢাকাFriday , 4 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জালিয়াতি করে ১০৬ আসামির মুক্তি : দুদকের চার্জশিট অনুমোদন

Link Copied!

Dudokনিজস্ব প্রতিবেদক : মাদক চোরাচালান ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ৭৪ মামলার ১০৬ জন দাগি আসামি মুক্ত করে দেয়ার ঘটনায় করা মামলার চার্জশিটের অনুমতি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। এসব জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে মহানগর দায়রা জজ আদালতের চারজনকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এক বৈঠকে এ চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেয় কমিশন। দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মো. শফি উল্লাহ শিগগিরই এ চার্জশিট বিচারিক আদালতে দাখিল করবেন। দুদক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বরখাস্ত হওয়া বেঞ্চ সহকারী মোসলেহ উদ্দিন ভূঁইয়া, মহানগর দায়রা জজ আদালতের নেজারত বিভাগের কর্মচারী শেখ মো. নাঈম, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের উমেদার মো. আলমগীর হোসেন, জাহাঙ্গীর হোসেন ও মো: ইসমাইল।
দুদক সূত্র জানায়, ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সামছুন্নাহারের স্বাক্ষর জাল করে যোগসাজশে ভুয়া জামিননামা তৈরি করে একই আদালতের পাঁচ জন কর্মচারী। পরে তা কেন্দ্রীয় কারাগারে পেশ করে বিশেষ ও দায়রা জজ আদালতের ৭৪টি মামলার চিহ্নিত ও দাগি ১০৬ জন আসামিকে মুক্ত করেন। ২০১৪ সালের ৮ জানুয়ারি থেকে ৭ জুন পর্যন্ত সময়ে ওইসব আসামিকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে নেয়া হয়।
দুদকের তদন্তে দেখা যায়, ওই ৭৪টি মামলার কোনো প্রকার জামিনের আদেশ ছাড়াই আদালতের নথিতে জামিনের দরখাস্তসহ জামিননামা অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। ওইসব জামিননামায় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ সামছুন্নাহারের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত আসামি আদালতের ভেতরে অবস্থান করে বিচারকের অগোচরে গোপনে ভুয়া জামিননামাগুলো তৈরি করেন। এ প্রতারকচক্র শুনানি না করে বিচারকের খাস কামরায় জামিন মঞ্জুর হওয়ার মিথ্যা কথা বলে ওই ৭৪টি মামলার সংশিষ্ট আইনজীবীর কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে আসামিদের জামিননামা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রতিটি মামলার জামিনের ক্ষেত্রে আসামি পক্ষের লোকজনের কাছ থেকে কম-বেশি ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নিয়েছেন তারা। এ হিসেব অনুযায়ী ১০৬ জনকে জামিন দিয়ে দিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। আর ভুয়া জামিনে ছাড়া পাওয়া আসামিরা মাদক চোরাচালান ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ২০১৪ সালের ১২ জুলাই ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের নাজির উবায়দুল করিম আকন্দ বাদী হয়ে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। সে মামলায় দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের দু’জন কর্মচারীকে আসামি করা হয়েছিল। পরে অপরাধটি দুদকের তফসিলভুক্ত হওয়ায় তদন্তের জন্য মামলাটি থানা থেকে দুদকে পাঠানো হয়। দুদক পাঁচ মাস তদন্ত করে মামলার দুই আসামিসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে এ জালিয়াতির ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় তাদের চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়েছে।