ঢাকাTuesday , 1 March 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অভিযোগ বস্তাবন্দি, দায় এড়াচ্ছে ইসি

Link Copied!

ECনিজস্ব প্রতিবেদক : ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মনোনয়নপত্র জমাদানে বাধা, প্রার্থীদের নানাভাবে হুমকি-ধামকি, হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ জমা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনে। তবে আমলে নেয়া তো দুরের কথা, ইসিতে বস্তাবন্দী হয়ে পড়ছে এ সব অভিযোগ।
ইসি সূত্র জানা যায়, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নিয়মিত বৈঠকে কোনো অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত, পদক্ষেপ গ্রহণ, আমলে নেয়ার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে ইসিতে আসা অভিযোগগুলো বস্তাবন্দী হয়ে পড়ছে। এমনকি মাঠ পর্যায়েও সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পাঠানো হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসি কর্মকর্তা জানান, শুরু থেকে যে হারে অভিযোগ আসছে, আর আমরা যদি সেসব অভিযোগ গ্রহণ করি তাহলে অভিযোগের পাহাড় হবে। ফলে পরবর্তী ধাপের নির্বাচনের তফসিল বাধগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া এত অভিযোগ খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করাও কঠিন।
জানতে চাইলে এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে। কিছু কিছু অভিযোগ আসছে তবে এসব অভিযোগ তদন্তে করে দেখা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তিকে ন্যায় বিচার পেতে হলে উচ্চ আদালতে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।’
কয়েকজন ইসি কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবারের ইউপি নির্বাচনে কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিয়েই দায় এড়াচ্ছে ইসি। কোথাও কোথাও মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনাও পাঠানো হচ্ছে না।
এদিকে প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ১১ দিন পর ৮ জন উপ-সচিবের সমন্বয়ে নামে মাত্র তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। যে কমিটি উপ-সচিবের অনেকেই গা ছাড়াভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই কমিটির কাজ হচ্ছে- মাঠ পর্যায়ে নির্দেশনা পাঠানো, পরিপত্র জারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় সাধন, আচরণবিধি প্রতিপালন ও প্রার্থীদের ব্যয় তদারকি করাসহ নির্বাচন পরিচালনা করা। তবে গত এক সপ্তাহে দুটি পরিপত্রের মাধ্যমে নির্দেশনা পাঠানো ছাড়া কোনো কর্মকাণ্ডই ছিলনা এই কমিটির। আচরণবিধি লঙ্ঘন ও প্রার্থীদের ব্যয় সীমা তদারকির বিষয়ে কোনো তথ্য নেই কমিটির কাছে। কয়েক জায়গা থেকে অভিযোগ আসলেও সেটাকে ফাইলবন্দি করে সংশ্লিষ্ট জায়গায় পাঠানো বা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
এদিকে ইসি সূত্রে জানা যায়, ৮ উপ-সচিবের কমিটির কাজের কোনো সমন্বয় নেই। যে যার দপ্তরে বসে কাজ করছেন। কিন্তু সমন্নিত বৈঠক বা সিদ্ধান্তের বিষয়ে গা ছাড়া ভাব তাদের।
এসব বিষয়ে কমিটিতে দায়িত্বরত উপ-সচিবদের কাছে কোনো বিষয় জানতে চাইলে একজন আরেকজনকে দেখিয়ে দেন।
সোমবার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপ-সচিব সামসুল আলমের কাছে উন্নয়ন প্রকল্প বন্ধের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দিয়ে কোনো চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি সারাদিন বাইরে ছিলাম বলতে পারব না।’
অথচ ইউপি নির্বাচন সংক্রান্ত পরিপত্র জারি, চিঠি প্রদান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়সাধন, আচরণবিধি প্রতিপালনের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণসহ নানা বিষয় তারই দেখার কথা।
পৌর নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ গ্রহণ ও তার প্রাপ্তি স্বীকারের জন্য মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছিলো। এবার ইউপি নির্বাচনে কোনো মনিটরিং সেল গঠন করা হয়নি। এমনকি পত্রিকায় প্রকাশিত বিধি ভঙ্গের সংবাদও আমলে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। সেগুলো কমিশন সভায় উত্থাপন করে বিস্তারিত কমিশনকে অবহিত করার কথা ছিলো। কিন্তু ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভিযোগ গ্রহণ করার বিষয়ে কোনো মনিটরিং সেল গঠন করা হয়নি। গতকালও কয়েকজন প্রার্থী অভিযোগ নিয়ে এসে বিপাকে পড়েছেন। কোথায় অভিযোগ জমা দেবেন, তার কোনো হদিস পাচ্ছিলেন না তারা। শুধুমাত্র ডেসপাসের খাতায় বন্দী হচ্ছে অভিযোগগুলো।
ইসিতে আসা নানা অভিযোগ খতিয়ে দেখা যায়, ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে সম্ভাব্য প্রার্থী ও তার পক্ষে অনেকেই অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। এসব অভিযোগের বেশির ভাগই ভয় দেখিয়ে জোর করে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের হুমকি, মনোনয়ন জমাদানে বাধা প্রদান, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মীদের ভয়-ভীতি প্রর্দশন, বিরোধী প্রার্থীদের এলাকা ছাড়া করা এবং নানা ধরনের হুমকি-ধামকি। এ রকম ঘটনার অভিযোগ স্তূপ আকারে জমা হচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও রিটানিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে। বিএনপির মতো দলও দাবি করেছে প্রথমধাপে ১১৪ টি ইউপিতে তাদের সমর্থিত প্রার্থী মনোনয়ন জমা ও প্রত্যাহারে বাধ্য হয়েছেন।
এদের মধ্যে কক্সবাজারের পেকুয়া, কুমিল্লার বড়রা, জমালপুর সদর ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে বেশকিছু হুমকি-ধামকি দিয়ে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ জমা পড়েছে। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ইসলাম কাঠি ইউনিয়নের বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম খান তার অভিযোগে বলেছেন, ‘মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য তাকে নানাভাবে ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে। তার কর্মীরা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কোনো কাজ করতে পারছে না আওয়ামী লীগ প্রার্থীর ভয়ে।’
ইসি কর্মকর্তারা জানান, যত অভিযোগই আসুক, প্রতিকার করার কোনো ব্যবস্থা নেই ইসির। ফলে এবারই প্রথম কোনো ইউপি নির্বাচনে প্রথম ধাপেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অর্ধশতাধিক সরকার দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আর যদি এসব অভিযোগের তদন্ত করা হয় তাহলে, নির্বাচনই বানচাল হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে। এগুলো সুনির্দিষ্ট নয়, ঢালাওভাবে করা হয়েছে। তারপরও আমরা আমলে নেয়ার চেষ্টা করছি। যেখানে ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন সেখানে নেবো। যেহেতু আমাদের দায়িত্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ভিত্তিক, সেখানের কোনো অভিযোগ পাইনি। এছাড়া বাইরে যা ঘটবে তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবস্থা নেয়া জন্য বলেছি।’
উল্লেখ্য, এবার সারাদেশে সাড়ে চার হাজার ইউপিতে ছয় ধাপে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। ১ম ধাপে ৭৩৮ ইউপিতে ভোট হবে ২২ মার্চ। দ্বিতীয় ধাপের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৬৮৪ ইউপিতে ২ মার্চ পর্যন্ত মনোনয়ন জমার শেষ দিন, ভোট ৩১ মার্চ। এর পরে যথাক্রমে চার ধাপে ২৩ এপ্রিল ৭১১টি, ৭ মে ৭২৮টি, ২৮ মে ৭১৪টি এবং ৪ জুন ৬৬০টি ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।