আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ফ্রান্সে শরণার্থীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। সোমবার দেশের ‘জঙ্গল’ নামে পরিচিত ক্যালে বন্দর এলাকায় অস্থায়ভাবে নির্মিত শিবির উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে ওই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছিল। ওই সংঘর্ষে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিবিসি বলছে, সোমবার রাতে সরকারি উচ্ছেদকারী দল জঙ্গল শিবির ভাঙতে শুরু করলেই শরণার্থীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করে। তারা শিবিরের ভিতরে পাথর ছুড়ে উচ্ছেদ কাজে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করে। সোমবার সারাদিনে জাঙ্গল শিবিরের প্রায় ১০০টি ঘরে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। উচ্ছেদকারী দলটির মঙ্গলবার সকালে আবার ওই শিবিরে আসার কথা রয়েছে।
তখন উত্তেজিত শরণার্থীদের লক্ষ করে কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে দাঙ্গা পুলিশ। এ সময় শিবিরটির অন্ততপক্ষে ১২টি ঘরে আগুন দেওয়া হয়। আগুন থামাতে জলকামান ব্যবহার করা হয়। তবে জঙ্গল শিবির থেকে কতজনকে উচ্ছেদ করা হয়েছে এবং তারা এখন কোথায় আশ্রয় নেবে সে সম্পর্কেও কিছু জানা যায়নি।
সংঘর্ষের পর শিবিরের যেসব ঘরে লোকজন রয়েছে সেগুলো উচ্ছেদ না করে শিবিরের দক্ষিণাংশে চলে যায় উচ্ছেদকারীরা। উচ্ছেদ শেষে শিবিরের ওই অংশে অল্প কিছু স্থাপনা শুধু অবশিষ্ট আছে।
এদিকে উচ্ছেদ শুরু হওয়ার পর প্রায় দেড়শর মতো মানুষ গাড়ি আটকানোর উদ্দেশ্যে ক্যালেমুখি সড়কে উঠে পড়ে। এদের অনেকের হাতেই লোহার ডাণ্ডা আছে। দাঙ্গা পুলিশ এদের শিবিরে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
শিবিরটি ভেঙে ফেলার আগে এর আভ্যন্তরিণ পরিবেশ উন্নত করার চেষ্টা করেছিল স্বেচ্ছাসেবী ও ত্রাণকর্মীরা। এর আগে ওই শিবিরের কোনো বাসিন্দাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্থানীয় প্রশাসন। তাদের হিসাব মতে এতে ৩৭০০ মানুষ রয়েছে। ওই উচ্ছেদের ফলে এখানকার ৮শ থেকে এক হাজার জন ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও জানা গেছে।

