আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আমেরিকার কানসাস রাজ্যে গোলাগুলিতে এক বন্দুকধারীসহ চার ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজ্যের একটি কারখানায় গোলাগুলির এ ঘটনা ঘটে। বন্দুকধারীর এলাপাথাড়ি গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন কারখানার আরও ১৪ কর্মী। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, কারখানার একাধিক স্পটে বন্দুকধারীর এলোপাথাড়ি গুলিতে তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়। পরে পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলিতে বন্দুকধারীও নিহত হয়। বন্দুকধারী ওই কারখানার এক প্রাক্তন শ্রমিক বলে জানিয়েছে পুলিশ। এটি এক্সসেল শিল্পগ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান।
রাজ্য পুলিশ কর্মকর্তা শরিফ টি ওয়ালটন জানান, সহকর্মীর গাড়ি চুরি করে সে কারখানায় আসছিল। পথে যাকে দেখেছে তাকেই গুলি করেছে। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে গাড়ির মালিকও রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গোলাগুলির এ ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসী তৎপরতার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কী কারণে বন্দুকধারী এ ঘটনা ঘটিয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। বন্দুকধারী ওই কারখানার একজন কর্মী। তবে তার পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
ওই কারখানার কর্মী মার্টি পিয়ার্স স্থানীয় একটি টেলিভিশনকে জানান, ‘বন্দুকধারী কারখানায় ঢুকেই এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করে। প্রথমে ভেবেছিলাম কারখানার কোথাও আগুন লেগেছে কিংবা বিস্ফোরণ হয়েছে। বুঝতে পারেনি যে, কেউ গুলি ছুড়তে ছুড়তে ঢুকছে। দেখতে পেয়ে আমি সামনের পার্কিং লটে আত্মগোপন করি।’
গোলাগুলির সময় কারখানার সামনে অবস্থান করছিলেন ষাটোর্ধ ভেরা এসপিনোজা। ওই কারখানায় সুপারভাইজর পদে চাকরি করছে তার সৎ ছেলে। তিনি ছেলের জন্য সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরে গোলাগুলির মধ্যে ছেলে তাকে ফোন করে জানায়, বন্দুকধারি তাকে লক্ষ্য করে গুলি করেছিল। সৌভাগ্যক্রমে গুলিটি তাকে বিদ্ধ করেনি।
সপ্তাহখানেক আগে মিশিগানে এক ট্যাক্সিচালক ছয় পথচারীকে গুলি করে হত্যা করে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইন কংগ্রেসে আলোচনার সময়ে ফের এ হত্যার ঘটনা ঘটলো। অবাধে অস্ত্র প্রাপ্তি নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নতুন আইন অনুমোদন করেন। কংগ্রেসে অনুমোদন পেলে অস্ত্র কেনায় ওবামা প্রস্তাবিত নতুন এ আইন কার্যকর হবে।

