ঢাকাThursday , 25 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের মহাপরিকল্পনা করেছে সরকার

Link Copied!

Electryগোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা করেছে সরকার। বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৫শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। ২০১৬ সালের মধ্যেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। ২০২১ সালে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩১ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট ও ২০৪১ সালে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। বিশ্বের বুকে উন্নত একটি উন্নত সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে ও বাস্তবায়ন করছে।’

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার ৯০টি গ্রামের ৬ হাজার পরিবারে বিদ্যুৎ সংযোগ, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি প্রকল্প ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের উদ্বোধন ‍করে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ, সেতু, রেল ও সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমরা মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমরা ৫৩৭টি সেতু তৈরি করেছি। পদ্মা সেতুর কাজ চলছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমরা সড়ক করে দেব। আপনারা আমার প্রতি আস্থা রেখেছেন। বাংলাদেশের উন্নয়নের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। আমরা প্রতিটি ঘরে আলো দেব। কেউ অন্ধকারে থাকবে না।’

এ সময় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র, গ্রামে বিদ্যুতায়ন, সেতু, রেলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার এসব উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

প্রথমে প্রধামন্ত্রী নিজ নির্বাচনী এলাকা গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলায় ৯০টি গ্রামের ৬ হাজার পরিবারকে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোটালীপাড়াবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। সব এমপিদের নিজের এলাকা দেখতে হয়। আমি কোটালীপাড়ার এমপি। কিন্তু আমাকে সারা বাংলাদেশের ৩শ আসন দেখতে হয়। তারপরও আমি কোটালীপাড়ার মানুষের সহযোগিতা পাই। আমি বাবা-মা-ভাই সব হারিয়েছি। কোটালীপাড়াবাসী আমার বাবা-মা-ভাই।

এ অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ূন কবীর বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জ জেলা, কোটালীপাড়া, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা, পুলিশ, বিদ্যুৎ বিভাগ, প্রকৌশল অধিদপ্তর ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে জানান, কোটালীপাড়া উপজেলার ১৯৭টি গ্রামের ৪৮০২৯টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে ৪৪,৯৯৯টি পরিবারে বিদ্যুৎসংযোগ দেয়া হয়েছে। বাকি রয়েছে ৩৫৩০টি পরিবার। এ উপজেলার ৯২ শতাংশ এলাকা বিদ্যুৎসংযোগের আওতায় এসেছে। চলতি বছরের জুনের মধ্যেই বাকী ৮% এলাকা বিদুৎ সংযোগের আওতায় আসবে। গোপালগঞ্জ জেলার ৮৩% এলাকা বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় এসেছে। ২০১৮ সালের মধ্যে গোটা জেলা শতভাগ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আসবে। ইতোমধ্যে আমরা সাড়ে ৩ হাজার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী সোলার প্যনেল স্থাপন করেছি বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘গোপালগঞ্জের মানুষ দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল। তারা বঞ্চিত হয়েছে। এখন থেকে যেন আর বঞ্চিত না হয়। সেদিকে আপনারা নজর দেবেন। যার ঘর নেই তাকে আমরা ঘর করে দেব। প্রতিটি মানুষ যাতে চিকিৎসা, অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও শিক্ষার সুযোগ পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে।’

এরপর প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের পটিয়ার ১০৮ মেগাওয়াট ইসিপিভি চট্টগ্রাম লিমিটেড, কুমিল্লার জাঙ্গালিয়ার ৫২ দশমিক ২ মেগাওয়াট লাকধানাভি বাংলা পাওয়ার লি, গাজীপুরের কড্ডার ১৫০ মেগাওয়াট বিপিডিবি-আরপিসিএল পাওয়ারজেন লি. এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট সিসিপিপি (এসটি ইউনিট) বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পটুয়াখালী জেলায় পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে নবনির্মিত শেখ কামাল সেতু ও শেখ জামাল সেতু, সিলেট সড়ক জোনে ইস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (ইবিবিআইপি) আওতায় নবনির্মিত ১৬টি সেতু, সিগনালিং ব্যবস্থাসহ টঙ্গী-ভৈরববাজার ডাবল লাইন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ২য় রেললাইনে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন, নারায়ণগঞ্জ শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সোনাকান্দা পানি শোধনাগারেরও উদ্বোধন করেন।
এছাড়াও তিনি জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জামায়াত ২০০১ সালে ক্ষতায় এসে বাংলাদেশের রেললাইন সম্প্রসারণ বন্ধ করে দেয়। রেল সংকোচন নীতি গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন রেললাইনে রেল চলাচল বন্ধ করে দেয়। আমরা সারাদেশে রেল যোগাযোগ গড়ে তুলতে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আমার যমুনা সেতুতে রেল লাইন সংযোগ করে টাঙ্গাইলে রেল নিয়ে গেছি। আমরা বরিশালে রেললাইন স্থাপন করে বরিশালে রেল নিয়ে যাব। রেলে কম খরচে সহজে পণ্য পরিবহন করা যায়। রেল ভ্রমণ আমারদায়ক ও নিরাপদ। তাই আমরা কুয়াকাটা, মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত রেল নিয়ে যাবে। সারাদেশে রেল যোগাযোগ গড়ে তুলবো।