ঢাকাMonday , 22 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১৭০ গ্রামে স্কুল নেই!

Link Copied!

sirajgonjসিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : গ্রামের নাম সাটিকাবাড়ি। পৌর শহর থেকে প্রায় ৪ কিমি. দূরত্বের গ্রামটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও মাদরাসাসহ কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। একটি মাত্র ঈদগাহ মাঠ ও মসজিদ। তাও আবার অনুন্নত। এ গ্রামটিতে নেই কোনো পাকা রাস্তা। কাঁচা রাস্তা-ঘাটগুলো একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী। এখানে ইউপি বা সরকারিভাবে কোনো প্রকার উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি আজো।এ গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর আঞ্চলিক সড়কের শালুয়াভিটা হাট থেকে পশ্চিম দিকে কাঁচা রাস্তা দিয়ে প্রায় এক কিমি. পর থেকে গ্রামটির শুরু। সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি ইউনিয়নের এ গ্রামটির পাশ দিয়ে যমুনা নদীর ছোট একটি শাখা সরু খাল হয়ে বয়ে গেছে।

শুনশান নিরিবিলি শান্তিপ্রিয় এ গ্রামের আয়তন প্রায় ৭শ বর্গকিলোমিটার। এখানে রয়েছে প্রায় এক হাজার পরিবারের বসবাস। জনসংখ্যা প্রায় ৪ হাজার। শিশু-কিশোরের সংখ্যা প্রায় ১২শ। পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এ গ্রাম থেকে ওই বিদ্যালয়গুলোর দূরত্ব অনেক বেশি এবং কাঁচা রাস্তা-ঘাটগুলো চলাচলের অনুপযোগী হওয়ার কারণে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুল বিমুখ হয়ে পড়ছে। অনেক দূরে স্কুল এবং রাস্তা-ঘাটসহ নানা সমস্যার কারণে ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠিয়ে অভিভাবকরাও সব সময় শঙ্কায় থাকেন। সিরাজগঞ্জ এ রকম স্কুলসহ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত ১৭০টি গ্রাম রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, কাজিপুর ও রায়গঞ্জ উপজেলা বাদে সদর উপজেলায় ৩৮টি গ্রামে , কামারখন্দে ২টি গ্রামে, বেলকুচিতে ২১টি গ্রামে, উল্লাপাড়ায় ৬১টি গ্রামে, তাড়াশে ৬টি গ্রামে, শাহজাদপুরে ৩৮টি গ্রামে এবং চৌহালীতে ৪টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই।

সাটিকাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা ৭৫ বছরের বৃদ্ধ আব্দুল মজিদ তালুকদার বলেন, ‘স্কুল না থাকায় আমাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করতে অনেক সমস্যা হয়। কতো সরকার আসে যায় কিন্তু এ গ্রামের কোনো উন্নয়ন হয় না। ভোটের সময় চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ভালো ভালো উন্নয়নের কথা বলে শুধু ভোট নেয়। ইউনিয়ন পরিষদ বা সরকারিভাবে এ গ্রামের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন তো দূরের কথা, মসজিদ ও ঈদগাহ মাঠের জন্যও কোনো বরাদ্দ আসে না।’

খোকশাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রাসিদুল হাসান রসিদ মোল্লা বলেন, ‘গ্রামটিতে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। রাস্তা-ঘাটগুলোও কাঁচা। পাকা রাস্তার প্রকল্প ইউপিতে নেই। শুধু কর্মসৃজন, টিআর ও কাবিখা প্রকল্প। সাধ্যমত এসব প্রকল্পের মাধ্যমে ওই গ্রামের মসজিদ, ঈদগাহ মাঠ ও কাঁচা রাস্তা-ঘাটগুলো মেরামত করা হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে স্থানীয়ভাবে ওই গ্রামের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উদ্যোগ নিয়ে কাজ করতে হবে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুর ইসলাম বলেন, ‘বর্তমান সরকার শিক্ষার ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। নিয়মানুযায়ী যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় সামর্থ্যবানদের উদ্যোগ নিতে হবে।’