নিজস্ব প্রতিবেদক : শিশুরাই বাংলা ভাষাকে ধারণ করে এগিয়ে নিয়ে যাবে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর এভাবে লালিত হতে থাকবে বাংলা ভাষা, পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য সংস্কৃতি। তাই তো বড়দের হাত ধরে, কোলে চড়ে ভাষার শিকড় খুঁজতে ছোট সোনামণিরাও যোগ দিয়েছে জনতার ঢলে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে কাকডাকা ভোরে শহীদ মিনারে হাজির হয়েছিল তারা।
ছোট্ট আদিল এসেছিল শহীদ মিনারে। সঙ্গে বড় ভাই আবির আর বাবা-মা। ৪ বছরের আদিল জানে সে শহীদ মিনারে এসেছে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে। আবির তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে। একুশ মানে তার কাছে শুধুই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিন জানে ভাষা শহীদদের নাম। সে জানে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষার জন্য সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারসহ আরো অনেকে জীবন দান করেছিলেন। ভাষার জন্য ১৯৫২ সালের আজকের দিনে যুদ্ধ হয়েছিল। অরিনের ভাষায়, ‘ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে শহীদ মিনারে এসেছি।’
অরিন এসেছিল তার মায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের ৬৪ বছর হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে আজকে আমরা এখানে এসে দাঁড়িয়েছি। ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বলতে কিছু ইতিহাস আর স্থাপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে শহীদ মিনার। ইতহিাস যদি শিশুদের না জানানো হয় তাহলে সামনের দিনে ভাষা আন্দোলন বলে কিছু থাকবে না।’
তার মতে, ‘আজকের শিশুরাই আগামী দিনের বার্তাবাহক। আজকে তারা যা শিখবে নতুন প্রজন্মকে তাই শেখাবে।’ শিশুদেরকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধসহ জাতীয় ঐতিহাসিক বিষয়ে সঠিক শিক্ষা প্রদানের ব্যবস্থা থাকা উচিত বলে মনে করেন তিনি।
শহীদ মিনারের পাশে মামার বাসায় বেড়াতে এসেছে জনি। সে কেজিতে পড়ে। তার মা বলেন, বইতে শহীদ মিনার দেখেছে তাই বাস্তবে দেখাতে নিয়ে এসেছেন। শনিবার গ্রামের বাড়িতে (চাঁদপুর) চলে যাওয়ার কথা ছিল। জনিকে শহীদ মিনার দেখাতে থেকে যান তিনি।
শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাতে ফুল, পতাকা, মাথায় ব্যান্ড, গালে-হাতে শহীদ মিনারের প্রতিকৃতি সঙ্গে ঋতুরাজ বাহারি সাজে উপস্থিত হয় শিশু-কিশোররা।

