নিজস্ব প্রতিবেদক : রেলের সিডিউল বিপর্যয়সহ রেলের ভেতরের সেবার মান না বাড়িয়ে ৭ দশমিক ২৩ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়েছে সরকার। এতে করে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে দেখা গেছে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। যাত্রীরা বলছে, ভাড়া বাড়ানো হয়েছে তবে রেলের সেবার মান দিন দিন আগের চেয়ে খারাপ হচ্ছে।
কমলাপুর রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তূর্ণা নিশিথা এক্সপ্রেসে চট্টগ্রাম যাবেন সাবেক সচিব গোলাম মোস্তফা। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে এতে করে আমার কোনো আপত্তি নেই। তবে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো দরকার। প্রত্যেক ট্রেন দেরিতে আসে-যায়। এতে করে আমাদের স্টেশনে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। গন্তব্যে পৌঁছাতেও দেরি হয়।
অসুস্থ্ মা সামসুন্নাহারকে নিয়ে ড. কাজী সামসুল আলম টাঙ্গাইল যাবেন। তিনি বলেন, শুনেছি ভাড়া বেড়েছে, তবে সেবার মান বাড়েনি। ট্রেনের ভেতরে দাঁড়িয়ে লোক নেওয়া হয়। এছাড়া গাড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণ ফ্যান-লাইটও নেই।
তিনি বলেন, আমাদের ট্রেন সোয়া ১০টায় ছাড়ার কথা ছিল। এখন ১২টা বাজতে চললেও ট্রেন আসার কোনো খবর নেই। এদিকে বিশেষভাবে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।
সামসুল আলমের মতো শত শত যাত্রী টেনের জন্য অপেক্ষা করছে কমলাপুর রেল স্টেশনের প্লাটফর্মে। সব ট্রেন আসতে দেরি হচ্ছে এক থেকে দুই ঘণ্টা। সবার একটাই অভিযোগ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে কিন্তু সেবার মান বাড়েনি।
অনেকেই আবার অভিযোগ করেছে, বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে কিন্তু টিকিটের গায়ে আগের ভাড়াই উল্লেখ রয়েছে। যা বাড়ানো হয়েছে তার থেকে আরো বেশি পরিমাণ টাকা নিচ্ছে বলেও অনেকে অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে স্টেশন ম্যানেজার সুতাংশু চক্রবর্তী রাইজিংবিডিকে বলেন, খুব সহনীয় পর্যায়ে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। যাত্রীরা কোনো অভিযোগও করছেনা। কারণ সবকিছুর দামই বেড়েছে। ২০১২ সালের পর আজ নতুন করে ভাড়া বাড়ল।
ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয় সম্পর্কে স্টেশন ম্যানেজার বলেন, অনেকগুলো গাড়ির মধ্যে দু-একটি গাড়ির সিডিউল বিপর্যয় হলে এটাকে সিডিউল বিপর্যয় বলা যায় না। এখন আগের চেয়ে রেলের সেবার মান অনেক বেড়েছে। আরো বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি ট্রেনের যাত্রীর জন্য সিট বরাদ্দ এক হাজার। কিন্তু যাত্রী উঠে প্রায় তিন হাজার। তখন আমরা সেবার মান কীভাবে ধরে রাখব। তবে আমরা চেষ্টা করছি সেবার মান দিন দিন বাড়ানোর। দাঁড়িয়ে টিকেট বিক্রি করি যাত্রীর অনুরোধে, এ ছাড়া আমরা তাদের সিটে বসেই গন্তব্যে যাওয়ার অনুরোধ করি।
এদিকে নতুন ভাড়ায় প্রতি কিলোমিটার ৩৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আগে ছিলো ৩৬ পয়সা। একই হারে রেলপথে কনটেইনার পরিবহন ভাড়াও বাড়ছে। বর্ধিত ভাড়ার টিকেট এরইমধ্যে বিক্রি শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ভাড়ার নতুন হার: ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া ২৬৫ থেকে বেড়ে হবে ২৮৫ টাকা, শোভন চেয়ার ৩২০ থেকে বেড়ে ৩৪৫, এসি চেয়ার ৬১০ থেকে বেড়ে ৬৫৬, এসি সিট ৭৩১ থেকে বেড়ে ৭৮৮ ও এসি বার্থ ১ হাজার ৯৩ থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৮৯ টাকা হবে।
ঢাকা-খুলনা রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া ৩৯০ থেকে বেড়ে হবে ৪২০ টাকা, শোভন চেয়ার ৪৬৫ থেকে বেড়ে ৫০৫, এসি চেয়ার ৮৯১ থেকে ৯৬১, এসি সিট ১ হাজার ৭০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ১৫৬ ও এসি বার্থ ১ হাজার ৫৯৯ থেকে বেড়ে হবে ১ হাজার ৭৩১ টাকা।
ঢাকা-সিলেট রুটে শোভন শ্রেণির ভাড়া হবে ২৬৫ টাকা, শোভন চেয়ার ৩২০, এসি চেয়ার ৬১০, এসি সিট ৭৩৬ ও এসি বার্থ ১ হাজার ৯৯ টাকা।
ঢাকা-রাজশাহী রুটে উল্লিখিত শ্রেণিগুলোর ভাড়া হবে যথাক্রমে ২৮৫, ৩৪০, ৬৫৬, ৭৮২ ও ১ হাজার ৬৮ টাকা। অর্থাৎ ভাড়া বাড়ছে সাড়ে ৭ থেকে ৯ শতাংশ। অন্যান্য রুটেও প্রায় একই হারে ভাড়া বাড়ছে। এছাড়া ট্রেনের প্রতিটি শ্রেণিতে ন্যূনতম ভাড়া ৫-১০ টাকা হারে বাড়ানো হচ্ছে।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আইসিডি পর্যন্ত ওজন ও দৈর্ঘ্য ভেদে আগে বিভিন্ন ধরনের কনটেইনার পরিবহন ভাড়া ছিল ৯ হাজার থেকে ২১ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে হচ্ছে ৯ হাজার ৭০০ থেকে ২২ হাজার ৬০০ টাকা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের আইসিডি পর্যন্ত ফিরতি পথে কনটেইনার পরিবহন ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে।
এ বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি নতুন ভাড়ার হার অনুমোদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রেলপথ মন্ত্রণালয় গত ৭ ফেব্রুয়ারি ভাড়া বৃদ্ধি সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করে।

