ঢাকাFriday , 19 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিঝুমদ্বীপে ভূমি বন্দোবস্তে অনিয়মের তদন্ত শুরু

Link Copied!

nijum-dipনিজস্ব প্রতিবেদক : নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন, অবৈধ বন্দোবস্ত, হরিণ শিকার ও বন বিধিমালা অমান্য করে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করতে আদালতের নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটি হাতিয়ায় গেছেন। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, প্রখ্যাত নগরবিদ, বুয়েটের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এবং ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে রয়েছেন- বিশিষ্ট পানি বিশেষ ড. আইনুন নিশাত, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছউল আলম মণ্ডল, আসছেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. ইউনুছ আলী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান বন সংরক্ষক আকবর হোসেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বুড়িগঙ্গা রিভারকিপার শরীফ জামীল, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (আইন) মো. জাফর সিদ্দিক, পরিচালক (প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা) সুলতান আহমেদ, পরিচালক (পরিবেশগত ছাড়পত্র) সৈয়দ নজমুল আহসান, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস ও জেলা বন কর্মকর্তা আমির হোসেন চৌধুরী।
এছাড়াও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা সঙ্গে রয়েছেন।
সফরসূচি অনুযায়ী প্রতিনিধি দল শুক্রবার সকাল ৮টায় হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট হয়ে সকাল সাড়ে ৯টায় স্পিডবোটে নিঝুমদ্বীপ পৌঁছেন। সকাল ১০ টা থেকে তারা প্রতিটি বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত শুরু করেন। এসময়ে তারা সংবাদ মাধ্যমে আসা বিভিন্ন পতিবেদন ও ঘটনাগুলোর সত্যতা যাচাই করবেন। শেষে বিকেল ৩টায় তারা হাতিয়া ছেড়ে ঢাকায় যাত্রা করবেন।
এর আগে ‘কেমন আছো উপকূল’ শীরোনামে নিঝুমদ্বীপের সংরক্ষিত জাতীয় উদ্যানের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলের বৃক্ষ নিধন, হরিণ শিকার, অবৈধ ভূমি বন্দোবস্ত ও বন বিধিমালা অমান্য করে প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলামেইল। এ প্রেক্ষিতে আদালতে একটি রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আবু বকর ও ফটো সাংবাদিক রফিক উদ্দিন এনায়েত।
এতে আদালত নিঝুমদ্বীপে দেয়া ভূমি বরাদ্দ কেন বাতিল এবং এ সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষায় সরকারের ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।
একইসঙ্গে নিঝুম দ্বীপের জায়গা বন্দোবস্ত এবং সেখানে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। ওই এলাকায় যাদের ভূমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তাদের তালিকাও আদালতে দাখিল করতে নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া বিচার বিভাগীয় তদন্ত টিম গঠন করে প্রতিবেদন দাখিল করারও নির্দেশনা দেন আদালত।
ওই রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্রসচিব, পরিশে ও বনসচিব, ভূমিসচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, পুলিশের আইজি, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ ১৭ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
নিঝুমদ্বীপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল হলেও এতে অবাদ জনসাধারণের বসবাস, হরিণ বিচরণের স্থান সংকুচন করে অবকাঠামো নির্মাণ করছে বন বিভাগ। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বনবিভাগের বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পার্ক অফিস নির্মাণ (আরসিসি প্ল্যান্ট ফরম), ৩য় শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য স্টাফ ডরমেটরী-কাম-অফিস নির্মাণ, রেস্ট কর্নার নির্মাণ, অবজারভেশন টাওয়ার নির্মাণ, ওয়াশ রুম নির্মাণ, বারবেড ওয়ার ফেলিং নির্মাণ, আমব্রেলা সেড নির্মাণ, ডিয়ার ভিউইং প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ ও বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ প্রকল্প। এ ছাড়া বনাঞ্চলে ভূমি অফিসের অবৈধ ভূমি বন্দোবস্ত দিচ্ছে ভূমি অফিস।