নিজস্ব প্রতিবেদক : মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনার ও এর আশেপাশে নিরাপত্তায় সাড়ে ৬ হাজার পুলিশ নিয়োজিত থাকবে। এটি হবে চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনি। শহীদ মিনারকে ঘিরে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য বিশেষ কিছু পরিকল্পনাও গ্রহন করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, এবার প্রত্যেকটি প্রবেশ পথে আর্চওয়ে, চেকপোস্ট, মেটাল ডিটেক্টর সার্চ ব্যবস্থা ও ওয়াচ টাওয়ার থাকবে। পুরো এলাকা ট্রাফিক ব্যবস্থা ও রোডম্যাপে কিছুটা পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবার। পুরো এলাকায় থাকবে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) টিভি ক্যামেরায় সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধায়ন এবং আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কন্ট্রোল রুম। গত ১৫ ফেব্রয়ারি সচিবালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারি পালন উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিরাপত্তার ব্যাপারে বিস্তারিত জানাবেন।
তবে সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘৬ হাজার পুলিশ সদস্য চার স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বেষ্টনি দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে শহীদ মিনার ও তার আশেপাশে দায়িত্ব পালন করবে। দেশের নেতারা, বিদেশি এবং সাধারণ জনগণের একুশ পালনের জন্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এ এলাকা সিসিটিভির আওয়ায় থাকবে। প্রবেশ মুখে আর্চওয়ে থাকবে এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে সার্চ করা হবে। একুশে ফেব্রুয়ারির দিন নগরীর যান চলাচলের রোডম্যাপ করা হয়েছে। ফায়ার ফাইটিং সব ধরনের ইকুইপমেন্ট নিয়ে তৈরি থাকবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ফাস্ট এইডের জন্য চিকিৎসকও প্রস্তুত থাকবে। শহীদ দিবস পালনে নিরাপত্তার পাশাপাশি বইমেলাতেও নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের লক্ষ্য রাখা হবে। এ ছাড়া বইমেলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
এদিকে ডিএমপি সূত্র জানায়, একুশে ফেব্রুয়ারির আগেই নিরাপত্তা বিষয়ে আগাম তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ইতোমধ্যে নজরদারি শুরু করেছে। শহীদ মিনারের আশপাশের জগন্নাথ হল, চাঁনপুর, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পলাশী, আজিমপুর কবরস্থানসহ পুরো এলাকায় পোশাকে ও সাদা পোশাকের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পলাশী বাংলা একাডেমির বইমেলাসহ পুরো এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে ওই দিন। ইতোমধ্যে একাধিক বৈঠক করেছে ডিএমপি’র কর্মকর্তারা।
ডিএমপির উপ-কমিশনার (ডিসি- মিডিয়া) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, শহীদ মিনারে আসা ভিভিআইপি, ভিআইপিসহ দেশি-বিদেশি অতিথিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
র্যাব সূত্র জানায়, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ডগ স্কোয়াডও নিরাপত্তায় কাজ করবে। শহীদ মিনার এলাকায় র্যাব-পুলিশের সমন্বয়েই থাকবে চার স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘যদিও কোনো ধরনের হুমকি নেই, তবুও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাব কাজ করবে।’

