ঢাকাTuesday , 16 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কাজী আরেফসহ ৫ জাসদ নেতা হত্যার ১৭তম বার্ষিকী আজ

Link Copied!

jasodকুষ্টিয়া প্রতিনিধি : আজ বেদনাবিধুর ১৬ ফেব্রুয়ারি। এদেশের ইতিহাসের একটি কালো দিন। এদিনে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ পাঁচ জাসদ নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আজ তার ১৭তম বার্ষিকী।

দীর্ঘদিন পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৩ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকরা হওয়ায় নিহতের নেতাদের পরিবারের সদস্যরা তাতে স্বস্তি প্রকাশ করলেও তাদের দাবি এ হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীরা আজও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতকদের অনেকেই এখনও গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা দানা বেঁধেছে নিহতদের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মধ্যে। সেইসঙ্গে তারা শঙ্কাও প্রকাশ করেছে।
হত্যাকাণ্ডের নির্মম শিকার অ্যাড. ইয়াকুব আলীর বড় ছেলে ইউসুফ আলী রুশো জানান, ৩ ঘাতকের ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় আমাদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য মূল পরিকল্পনাকারীরা আজও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। এখনও গ্রেপ্তার হয়নি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ঘাতকের অনেকেই। তাই এখনও উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা পিছু তাড়া করে। সেই সঙ্গে মনের মাঝে সর্বদা বিরাজ করে শঙ্কা। ইতিহাসের নির্মম হত্যাযজ্ঞে জড়িত যারা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি তাদের গ্রেপ্তার এবং এর পেছনের পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকাররে কাছে দাবি জানান তিনি।

একই দাবি জানিয়েছেন সেদিনের ওই জনসভার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন তৎকালীন স্থানীয় জাসদ নেতা হেলাল উদ্দিন। তিনিও হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীদের চিহ্নিত করে তাদের জনসম্মুখে এনে বিচার করার দাবি জানান।

এদিকে, নির্মম ও ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড সংঘঠিত হওয়ার ১৭ বছর পার হতে চললেও আজও কালিদাসপুর ট্রাজেডি স্থলে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সন্ত্রাসবিরোধী এক জনসভায় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাসদ সভপাতি কাজী আরেফ আহমেদ, জেলা জাসদের সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও শমসের মণ্ডল সন্ত্রাসীদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এ ঘটনায় সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিনই পুলিশ বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরদিন সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের সাড়ে পাঁচ বছর পর ২০০৪ সালের ৩০ আগস্ট কুষ্টিয়ার জেলা ও দায়রা জজ আদালত ১০ আসামির ফাঁসি ও ১২ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করলে ২০০৮ সালের ৫ আগস্ট হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১০ আসামির মধ্যে ৯ জনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখেন। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ আসামির সাজা মওকুফ করেন হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে ফাঁসির তিন আসামি রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু, আনোয়ার হোসেন ও সাফায়েত হোসেন হাবিব ওরফে হাবি সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন।

২০১১ সালের ৭ আগস্ট প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে শুনানি শেষে আপিলকারী ফাঁসির ৯ জনের সাজা বহাল রাখেন। পরে ফাঁসির দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিরা সুপ্রিমকোর্টে রিভিউ করলে তাও ২০১৪-এর ১৯ নভেম্বর খারিজ করে দেন আদালত। এরপর গত ৭ জানুয়ারি গভীর রাতে যশোর কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি আনোয়ার হোসেন, রাশেদুল ইসলাম ঝন্টু ও সাফায়েত হোসেন হাবিব ওরফে হাবির ফাঁসি কার্যকর করা হয়।