ঢাকাSaturday , 13 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঝাউগাছ নিধন বন্ধে ‘দায়সারা’ প্রশাসন

Link Copied!

treeকক্সবাজার প্রতিনিধি : জেলার টেকনাফে সমুদ্র সৈকতের আড়াই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তিনটি ঝাউবাগান থেকে অর্ধ লক্ষাধিক বৃক্ষ নিধনের ঘটনায় দায়সারা অবস্থান নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

‘শুধুমাত্র ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং প্রতিবেদন দিতে বলেছি’ এইটুকুতে সীমাবদ্ধ রয়েছেন বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যক্তিরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বনকর্মীদের যোগসাজশে গত এক মাস ধরে ঝাউ গাছ কাটা চললেও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টির ব্যাপারে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেননি। একবার পরিদর্শন ছাড়া ঘটনাস্থলে যাননি কোনো কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার এ ব্যাপারে একটি অনলাইন দৈনিকে সচিত্র সংবাদ প্রচারিত হলে নড়েচড়ে বসেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এখনো পর্যন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

কক্সবাজার উপকূলীয় বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জিএম মোহাম্মদ কবির জানান, ব্যাপকহারে ঝাউগাছ কাটার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার টেকনাফের শামলাপুর, শিলখালী ও জাহাজপুরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঝাউগাছ কাটার সঙ্গে জড়িত অনেকের নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে। জড়িতদের আটক করতে পুলিশ ও বিজিবির সহযোগিতায় কয়েকটি স্থানে অভিযান চালিয়েছি। এতে কেটে নেয়া ৬টি গাছ উদ্ধার করা গেলেও জড়িতরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

ঝাউগাছ নিধনের সঙ্গে বনকর্মীরা জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি জানান, বনবিভাগের জনবল সঙ্কট থাকায় বিশাল উপকূলজুড়ে থাকা বাগানের ঝাউগাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। মাত্র ৩ জন বনপ্রহরীকে দিন-রাত বিশাল এই বাগান দেখভাল করতে হয়।

স্থানীয়দের কাছে বনপ্রহরীরা ‘মুন্সি’ নামে পরিচিত হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারীদের অনেকে বনপ্রহরীর মিথ্যা পরিচয়ে অনৈতিক কাজ করছে। যার দুর্নামের ভাগিদার হচ্ছেন বনকর্মীরা। তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করায় বনকর্মীরা তাদের আটক করতে পারেন না। বনকর্মীদের এগিয়ে আসতে দেখলে দৃষ্কৃতিককারীরা দা বা কুড়াল বালিতে লুকিয়ে জেলে সাজে। ফলে তাদের চিহ্নিত করতে অসুবিধায় পড়তে হয়।’

ঝাউগাছ নিধনের সঙ্গে জড়িতদের ব্যাপারে এখনো তথ্য সংগ্রহ করার কাজ চলছে উল্লেখ করে জিএম মোহাম্মদ কবির জানান, তদন্ত কাজ শেষ হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

কক্সবাজার দক্ষিণ বিভাগিয় বন কর্মকর্তা আলী কবির জানান, দুর্বৃত্তদের ঝাউ গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে টেকনাফের সহকারী বন সংরক্ষককে (এসিএফ) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে বলেছি। ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি জানান, গত বুধবার বিকেলে টেকনাফের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) সরওয়ার আলমের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর, জাহাজপুরা ও শিলখালী এলাকায় সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ঝাউ বাগানের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রতিবেদন হাতে পেলে দায়ী ব্যক্তিদের ব্যবস্থা নেয়া হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শফিউল আলম জানান, সৈকতের ঝাউ বাগানের বিশাল এলাকাজুড়ে বৃক্ষ নিধনের খবর পেয়ে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি। গত বুধবার বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়েছে।

মাসখানেক আগে একই এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক ঝাউগাছ কেটে নিয়ে যায় দুষ্কৃতিকারীরা। এসময় বনকর্মীরা অভিযান চালিয়ে ১৪০টি ঝাউগাছ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় বন-আইনে ৬ জনের নামে মামলা দায়ের হয়। পরে তারা জামিনে বের হয়ে আসেন।

এ ব্যাপারে উপকূলীয় সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) জিএম মোহাম্মদ কবির জানান, গাছ ও বাগান বন বিভাগের হলেও ভূমির মালিক জেলা প্রশাসন। ফলে জটিলতার কারণে দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হলেও আইনের ফাঁক-ফোকরের কারণে তারা জামিনে বের হয়ে আসে।

টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর, জাহাজপুরা ও শিলখালীর পশ্চিমের সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন এলাকায় তিনটি ঝাউ বাগান থেকে গত এক মাস ধরে প্রায় অর্ধলাখ গাছ কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। সৈকতের অন্তত আড়াই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কেটে নেয়া গাছের গোড়ালিগুলো নিধনের ভয়াবহতার সাক্ষ্য বহন করছে।

উপকূলীয় জনগণের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে ২০০৬-০৭ সালে টেকনাফের বাহাছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর থেকে জাহাজপুরা পর্যন্ত ১০০ হেক্টর সৈকতের বালিয়াড়ীতে তিনটি বাগানে প্রায় ৫ লাখ ঝাউগাছ লাগায় উপকূলীয় বন বিভাগ। দৃষ্টিনন্দন এসব ঝাউ বাগান পর্যটকদের কাছে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূল রক্ষায়ও কাজ করে।