ঢাকাSaturday , 13 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিদ্যা আর বুদ্ধির ডালা নিয়ে ধরায় বীণাপানি

Link Copied!

sorosotiনিজস্ব প্রতিবেদক : শুক্রবার থেকেই শুরু হয়েছে বিদ্যা দেবী সরস্বতী পূজা। শনিবারও অনুষ্ঠিত হবে বিদ্যার ও ললিতকলার অধিষ্ঠাত্রী দেবী সরস্বতী পূজা। মর্তের ভক্তকূল এই দু’দিন শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী দেবী সরস্বতীর আবাহন করেছে এবং করবে। ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে দেশের বিভিন্ন পূজা মণ্ডপ।

প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হচ্ছে। শনিবার সকালে সংসদ ভবনের পাশে রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

সব ধর্মের প্রতি সম্মান জানাতে জাতীয় সংসদ সচিবালয় প্রতিবছরই এই উদ্যোগ নিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের জ্ঞানের দেবী সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেয়া হয়।

গতবারের মতো এবারও পূজা শুরু হবে সকাল ৮টায়। এরপর পুষ্পাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হবে সকাল সোয়া ১০টায়। এছাড়াও বিকেল ৫টায় সংক্ষিপ্ত কথামালাসহ পূজা ও স্বদেশ পর্যায়ের গান, নৃত্যনাট্য ও শাপমোচন অনুষ্ঠিত হবে।

পূজা অনুষ্ঠানে বিকেলের দিকে উপস্থিত থাকবেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এছাড়াও জাতীয় সংসদের সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। সারস্বতোৎসব সমন্বয় পর্ষদ ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় পূজা অনুষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনায় থাকবে।

শাস্ত্র মতে, প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী বিদ্যাদেবীর বন্দনা করা হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে শুক্রবার সকাল থেকেই এই তিথি আরম্ভ হয়েছে। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন মন্দিরে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবারও দেবীর আরাধনা হবে। ঐশ্বর্যদায়িনী, বুদ্ধিদায়িনী, জ্ঞানদায়িনী, সিদ্ধিদায়িনী, মোক্ষদায়িনী এবং শক্তির আধার হিসেবে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সরস্বতী দেবীর আরাধনা করেন।

সরস্বতী দেবী শ্বেতশুভ্র বসনা। দেবীর এক হাতে বেদ, অন্য হাতে বীণা। এজন্য তাকে বীণাপানিও বলা হয়। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, জ্ঞান ও বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী তার আশীর্বাদের মাধ্যমে মানুষের চেতনাকে উদ্দীপ্ত করতে প্রতি বছর আবির্ভূত হন ভক্তদের মাঝে। শিক্ষার্থীরাই এই পূজায় মনোযোগী হয়। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঘরে ঘরে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

ঢাকায় বিভিন্ন এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূজার আয়োজন হলেও সরস্বতী পূজার প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল মাঠ। বিস্তীর্ণ এই মাঠ জুড়ে সরস্বতী পূজা চমৎকার এক উৎসবে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে পূজা উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ হলকে ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন।

ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে শুক্রবাব দেবীর আরাধনা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ বলেন, ‘জ্যোতিষ শাস্ত্রে পাঁচ ধরনের সিদ্ধান্ত আছে। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ওই সিদ্ধান্তগুলোর একটি। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে শুক্রবার সকাল ৯টায়ই শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথি শুরু হয়েছে এবং এই তিথি শেষ হবে শনিবার সকাল ৭টা ১০ মিনিটে। রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসরণ করেই পূজানুষ্ঠান করে থাকে।’

ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনে শুক্রবার সকাল ৯টা ৪৭ মিনিটে পূজা আরম্ভ হয়। বেলা ১টায় দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জালী দেয়া হয়। পরে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় আরাত্রিক ও ভজন সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পীরা। শনিবারও রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনে দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. অসীম সরকার জানান, জগন্নাথ হলে শনিবার সরস্বতী দেবীর আরাধনা হবে। কেন্দ্রীয় উপাসনালয়সহ এবছর হলের মাঠে প্রায় ৭০টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। শুধু হিন্দু শিক্ষার্থীরাই নয় অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীরাও এই আয়োজনে সহোযোগিতা করেছে।

জগন্নাথ হলে পূজা মণ্ডপগুলের মূল আকর্ষণ চারুকলার শিক্ষার্থীদের নির্মিত প্রতিমা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ভাস্কর্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুকুল কুমার বাড়ৈ বলেন, ‘এবছর হলের পুকুরের মাঝখানে নির্মিত হয়েছে প্রায় ৪৫ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন প্রতিমা। আমরা এখন স্বাধীনতার ৪৫ বছর পূর্তির দ্বারপ্রান্তে। তাই দেশীয় সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে এ বছর ট্যাপা পুতুলের আদলে প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে। সেভাবেই দেবীর স্বরূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই একটি থিমকে প্রাধান্য দিয়ে চারুকলার শিক্ষার্থীরা প্রতিমা নির্মাণ করে। এবছর প্রতিমার থিম হলো ‘সমৃদ্ধির রূপকল্প’। প্রায় আট লাখ টাকা ব্যয়ে দেড় মাসের পরিশ্রমে চারুকলার শিক্ষার্থীরা এই প্রতিমা নির্মাণ করেছে।’

জগন্নাথ হলের আয়োজন সম্পর্কে ড. অসীম সরকার জানান, শনিবার সকল ৮টায় শুরু হবে অঞ্জলি প্রদান। এরপর শুরু হবে প্রসাদ বিতরণ। হলের মণ্ডপ পরিদর্শনে যতক্ষণ পর্যন্ত ভক্ত ও দর্শনার্থীরা আসবে ততক্ষণই প্রসাদ বিতরণ করা হবে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় কেন্দ্রীয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবার জন্য উন্মুক্ত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে রাত ২টা পর্যন্ত। দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা এতে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বলে তিনি জানান।