
ফেসবুক থেকে
নিজস্ব প্রতিবেদক : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার পর চার বছর পেরোলেও বিচারের আশা না ছাড়ার কথা বলেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, ‘আশা করি একটা সুরাহা হবে।’
মন্ত্রী বলেন, সাগর-রুনি হত্যার বিচারের বিষয়ে আপনার আশা ছাড়বেন না। আমরা ছাড়ছি না।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। তবে সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত আদৌ হচ্ছে না বলে মনে করেন মামলার বাদী রুনির ভাই নওশের আলম রোমান। দুপুরে তিনি বলেন, ‘মামলার তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। তদন্তের কিছুই আমরা দেখি না।’
‘চার বছরেও কোনো আপডেট আমাদের কাছে নেই। আমরা জানতেও পারিনি কিছু হয়েছে কি না’, বলেন নওশের আলম।
১১ ফেব্রুয়ারি এ মামলাটিতে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তার সাথে সাক্ষাতে বাদী নতুন কিছু জানতে না পারায় বলা যায় এ তারিখেও চার্জশিট দাখিল হচ্ছে না। গত বছরের ১৬ মার্চ ঢাকার সিএমএম আদালত সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে চেয়ে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন তলব করেছিলেন বিচারক।
হত্যাকাণ্ডের পর এ পর্যন্ত গত ৪৮ মাসে কমপক্ষে ৩০ বারেরও অধিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পেছানো হয়েছে।
এ পর্যন্ত তদন্তে ঘটনাস্থলের আশপাশের লোকজন, নিহতের আত্মীয়স্বজন, নিহতদের অফিসের সহকর্মী ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট ১৫০ জন ব্যক্তি জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
এ মামলাটিতে গ্রেপ্তার হয়েছেন নিহত রুনির কথিত বন্ধু তানভীর রহমান, বাড়ির সিকিউরিটি গার্ড এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবির, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মিন্টু ওরফে বারগিরা মিন্টু ওরফে মাসুম মিন্টু, কামরুল হাসান অরুন, পলাশ রুদ্র পাল ও আবু সাঈদ। আসামিদের মধ্যে তানভীর জামিনে আছেন।
২০১২ সালের বছর ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি নিজ ভাড়া বাসায় নির্মমভাবে খুন হন। পরদিন ভোরে তাদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ উদ্ধার করা হয়।

