আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের তেলমন্ত্রী বিজান জানজেনেহ বলেছেন, আন্তর্জাতিক তেল বাজারের পরিস্তিতি নিয়ে তিনি সৌদি আরব বা ওপেকের যে কোনো সদস্য দেশের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছেন।
পশ্চিমা দেশগুলো তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেয়ার পর তেল রপ্তানি বাড়িয়ে দিয়েছে তেহরান। দৈনিক ৫০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছে দেশটি। তাদের এই পরিকল্পনা তেল বাজারে ধস নামাবে বলেই অনুমান করা হচ্ছে। এমনিতেই তেলের বাজার পড়তির দিকে। তারপরও ওপেকভুক্ত দেশগুলোও বাজার নিয়ন্ত্রণে তেলের উৎপাদন কমাতে রাজি নয়।
মঙ্গলবার এ নিয়ে ইরানি তেলমন্ত্রী জানজেনেহ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা ওপেকের যে কোনো রাষ্ট্র এমনকি সৌদি আরবের সঙ্গেও তেলের বাজার নিয়ে সংলাপ বিনিময় এবং সহযোগিতা করতে রাজি আছি।’ এর আগে জানুয়ারি মাসের গোড়ার দিকে ইরানি তেলমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেছিলেন, কিছু নির্দিষ্ট দেশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল উৎপাদন করছে। তারা চাইলে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে তেলের বাজারে ভারসাম্য আনা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম পড়তে শুরু করে। বর্তমানে এই জরুরি পণ্যের মূল্য ৭০ ভাগ নেমে গেছে। কিন্তু পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রকম উদ্যোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সংগঠন ‘অর্গানাইজেশন অব পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্ট কান্ট্রিস’ বা এপেক। তারা প্রতিদিন তিন শ ব্যারল তেল উৎপাদন অব্যাহত রেখেছে। ফলে তেলের দাম কমেই চলেছে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে প্রতি ব্যারল অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ১শ ডলারের ওপরে। কিন্তু চাহিদার চাইতে যোগান বেশি থাকায় বর্তমানে তা ৩০ ডলারে নেমে এসেছে। এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকেল তেলের দাম কমে ২০ ডলারে নেমে আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

