ফেনী প্রতিনিধি : জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা ও অতিরিক্ত করের বোঝায় দিশেহারা হয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ফেনীর বিসিক শিল্পনগরীর বিনিয়োগকারীরা। বহু খাতে কর দিয়েও কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে তারা। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুণছে শিল্প মালিকরা।
বিনিয়োগকারীরা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ফেনী সদর উপজেলার চাড়িপুর মৌজায় ১৯৬২ সালে ২৫ দশমিক ০৪ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত হয় বিসিক শিল্প নগরী। এ বিশাল শিল্পনগরী গড়ে ওঠার প্রায় ৫৪ বছরেও নেই সড়ক বাতি। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় শিল্প নগরীতে প্রবেশের প্রধান সড়কসহ অভ্যন্তরীণ সকল সড়কে সারা বছর পানি জমে থাকে। এখন শীতের মৌসুমে বৃষ্টি না থাকলেও ড্রেনেজের পানিতে রাস্তাঘাট ডুবে আছে। এছাড়া বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতে সড়কগুলোতে হাঁটু পরিমাণ পানি জমে। ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত বিষাক্ত পানি ডিঙ্গিয়ে চলাচল করতে হয় শ্রমিকদের। দীর্ঘদিন ধরে সড়ক সংস্কার না হওয়ায় প্রতিটি অভ্যন্তরীণ সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে।
বিসিক কার্যালয় সূত্র জানায়, এ শিল্প নগরীর ১৫২টি প্লটের মধ্যে ১০টি প্লট প্রশাসনিক কাজের জন্য বরাদ্দ রেখে বাকিগুলো শিল্প ইউনিট স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে একটি ইউনিট খালি পড়ে থাকলেও ১৪১টি ইউনিটের মধ্যে একাধিক ইউনিট নিয়ে অর্ধশত শিল্প কারখানা গড়ে উঠেছে। যার মধ্যে বর্তমানে ৩৭টি ইউনিট উৎপাদনমুখী রয়েছে। বন্ধ রয়েছে ৫টি। বাস্তবায়নাধীন রয়েছে দু’টি। এ নগরীতে গড়ে উঠেছে রপ্তানিমুখী ওষুধ, টাওয়েল, হ্যান্ড মেইড পেপার, জুট, রাবারসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান।
ফেনী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, বিশেষ করে বেকারির উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে বেশি বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের। পরিবহনের গাড়ি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অতিরিক্ত কর ব্যবসায়ীদের বেশি ভোগাচ্ছে। একদিকে বিসিক ট্যাক্স নেয়, অন্যদিকে নিচ্ছে ফেনী পৌরসভা। শিল্পের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই গত ১৫ বছর ধরে। বিসিকের কেন্দ্রীয় পানির পাম্প অনেক আগ থেকে নষ্ট। এছাড়া বাৎসরিক ১০ হাজার টাকার ট্যাক্স এখন হয়েছে ৮৬ হাজার টাকা।
ফেনী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জানান, প্রতিবছর বিসিক কর্তৃপক্ষ, পৌরসভাসহ অন্তত ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট, ট্যাক্স ও উচ্চমূল্যে সার্ভিস চার্জ দিয়েও কোনো ধরনের সেবা পাচ্ছেনা বিনিয়োগকারীরা। এভাবে কর দিতে গেলে বাংলাদেশে আর কখনো শিল্পকারখানা গড়ে উঠবেনা। গ্যাস না পাওয়ায় কারখানাগুলোতে দিন দিন উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।
বিসিক শিল্পনগরীর প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজগর আলী জানান, ড্রেনের তুলনায় শিল্পনগরী অনেক নিচু হওয়ায় বর্ষাকালে পানি নিষ্কাষণ হয়না। রাস্তাঘাটের অবস্থা জানিয়ে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক টাকা বরাদ্দ পেলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। দ্বৈত করের ব্যাপারে ফেনী পৌরসভার সাথে আলাপ হয়েছে। খুব দ্রুত দ্বৈত করের বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।

