আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সম্প্রতি মিয়ানমারের সেনাপ্রধান ও নেত্রী অং সান সুচি’র মধ্যে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন একটি ধারা ও অবরুদ্ধ রাজনৈতিক কর্মীদের মুক্ত করার বিষয়ে আইনী জটিলতা নিয়েই ওই আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির সরকারপন্থী টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এই দুই নেতার মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে প্রচার করছে। সংবিধানের একটি ধারার কারণে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেয়েও দেশের প্রেসিডেন্ট হতে পারছেন না অং সান সুচি। ধারনা করা হচ্ছে, আলোচনার আরও অনেক বিষয় থাকলেও সংবিধান সংশোধন বিষয়টিই মূলত আলোচনার কেন্দ্র।
দেশটির সাবেক দীর্ঘকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী অং সান সুচির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যোসি(এনএলডি) গত নভেম্বর মাসের জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যক আসন পেয়ে জয়লাভ করে। যদিও নির্বাচনে জিতলেও মিয়ানমারের সংবিধানের ৫৯(এফ) ধারার কারণে অং সান সুচি প্রেসিডেন্ট হতে পারছেন না। ওই ধারায় বলা আছে যে, কারও স্বামী/স্ত্রী বা সন্তান যদি ভিন্ন দেশের নাগরিক হয় তাহলে সরকারি কোনো পদে তিনি কাজ করতে পারবেন না। উল্লেখ্য যে, সুচির প্রয়াত স্বামী ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক এবং তার দুই সন্তানও ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী।
তবে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ব গণমাধ্যমগুলোর বাইরে অপর দুটি উল্লেখযোগ্য গণমাধ্যম স্কাই নেট এবং মিয়ানমার ন্যাশনাল টেলিভিশন জানায়, এই দুই নেতার ইতিবাচক আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধান থেকে ৫৯(এফ) ধারাটি বাতিল করা হতে পারে। নির্বাচন পরবর্তী সময় থেকেই সুচি সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চীফ জেনারেল মিন অং হেলিংয়ের সঙ্গে এই ধারাটি বাতিলের বিষয়ে আপোস রফা করবার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ, যদি সংবিধানে এই ধারাটির বিপক্ষে সংসদের তিনভাগের দুইভাগ সদস্য ভোট দান করে তবে ধারাটি বাতিল করা সম্ভব হবে। সংসদের ২৫ শতাংশ আসন যেহেতু সেনাবাহিনীর তাই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা স্বত্ত্বেও সংবিধান সংশোধনে এনএলডি একক কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবে না।
অবশ্য এনএলডি’র কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য কাওয়া তোয়ে মনে করেন, ‘আমার মনে হয় সবকিছু ঠিকঠাকই হবে। এই আপোস রফাটুকু আমাদের নেত্রী অং সান সুচিকে প্রেসিডেন্ট হতে সাহায্য করবে।’। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক ইয়ান মো থেইন ভিন্ন কথা বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের তালিকায় যে অং সান সুচির নাম আছে সেটা একটু জলদি জলদিই ভাবা হচ্ছে। ধারা বাতিল এবং সাংবিধানিক সংশোধন আসতেই অনেকটা সময় লাগবে। আর আমরা শুধু টেলিভিশনে প্রচারিত সংবাদের উপর ভিত্তি করতে পারি না।’
মো থেইনের কথার রেশ ধরেই বলা যায়, অং সান সুচি নির্বাচনে জেতার পরে বলেছিলেন যে তিনি যদি প্রেসিডেন্ট হতে নাও পারেন তবু নেপথ্যে থেকেও দেশের জন্য কাজ করে যাবেন। অর্থাৎ সামরিক সরকার চাইলে সুচির বক্তব্যের এই অংশ ধরেও ভিন্ন প্রার্থীকে সামনে নিয়ে আসতে চাইতে পারে। যদিও নিশ্চিতভাবেই এনএলডি তাদের গণতন্ত্রের পথিকৃত ৭০ বছর বয়সী নেত্রীকেই প্রেসিডেন্ট হিসেবে চাইবে। কারণ এই গণতন্ত্রের জন্যই তিনি তার জীবনের মূল্যবান সময়গুলো কারাগারে কাটিয়েছেন।
গত শুক্রবার সাবেক মিলিটারি টাইড ইউনিয়ন সলিডারিটির প্রধান শোয়ে মানের নেতৃত্বে দেশটির নিম্ন এবং উচ্চ আদালতের কিছু বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। শোয়ে হোয়ে হলেন অনেকের মধ্যে সেই নেতা যিনি সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে নির্বাচনে অং সান সুচির পক্ষে দাড়িয়েছিলেন এবং সংবিধান সংশোধনের ব্যাপারে তার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।
যাই হোক, গত বছরের নভেম্বর মানে নির্বাচন হলেও ৩১ মার্চ অথবা ১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট অফিস করতে পারবেন না। প্রেসিডেন্ট প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া অনেক দীর্ঘ হওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসেই নতুন সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহন করবেন। এরপর তারা মোট তিনজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। কিন্তু ওই তিনজনের মধ্য থেকে একজনকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচন করার ভোটটি ঠিক কবে বা কখন অনুষ্ঠিত হবে তা কেউ বলতে পারে না।

