আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বসনিয়ার আদালতে এবং অন্যান্য আইনি প্রতিষ্ঠানে ধর্মীয় পোশাক এবং হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ওপর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ২ হাজার নারী।
ওই নিষেধাজ্ঞায় সব ধরনের ধর্মীয় প্রতীকের কথা বলা হলেও বিশেষভাবে হিজাবের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর একারণে এধরনের নিষেধাজ্ঞায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী সারাজেভোতে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেছেন নারীরা।
এর আগে সাবেক জুগোস্লাভিয়ার অধীনে থাকাকালীন বসনিয়ায় ১৯৯২ সাল পর্যন্ত হিজাব নিষিদ্ধ ছিল। সেসময় কমিউনিস্ট কর্তৃপক্ষ হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। পরে বসনিয়া জুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীন হয়।
সম্প্রতি দেশটির হাই জুডিসিয়াল কাউন্সিল বিচারকার্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত যেকোনো ধর্মীয় প্রতীক এবং হিজাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরই নারীরা বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেন। শিশুদেরকেও ওই সমাবেশে অংশ নিতে দেখা গেছে।
বিক্ষোভে নারীরা হিজাবের সমর্থনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে সমবেত হয়েছিলেন। সেসময় বেশ কিছু নারী ‘হিজাব আমার অধিকার’ বলে চিৎকার করছিলেন। ওই বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজক সামিরা জুনিক ভিলাজিক জানিয়েছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা মুসলমানদের সম্মান, ব্যক্তিত্ব এবং পরিচয়ের ওপর বড় ধরনের হামলা। এই নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য মুসলমান নারীদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।’
এই নিষেধাজ্ঞার প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মুসলমান রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় নেতারা। বসনিয়ায় ৩৮ লাখ মানুষ বাস করে। এদের মধ্যে ৪০ শতাংশই মুসলমান। বাকিরা সনাতন ধর্মাবলম্বী এবং ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়।

