বান্দরবান প্রতিনিধি : থানচি উপজেলার বিভিন্ন ঝিরি থেকে পাহাড় খুঁড়ে অবৈধভাবে চলছে পাথর উত্তোলন। বারুদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পাথর সংগ্রহ ও পাচার অব্যাহত রেখেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এতে নেই কোনো প্রশাসনের নজরদারী। উল্টো প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী পাহাড় ধ্বংস, মাটি খুঁড়ে পাথর আহরণের মতো পরিবেশ বিরোধী কার্যকলাপ করার সুযোগ করে নিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি চেয়ারম্যান জানান, গত কয়েক বছর ধরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া এলাকার মেসার্স হারুন কন্সট্রাকশনের মালিক হারুনর রশিদের ছেলে জিয়াউর রহমান থানচির বিভিন্ন ঝিরি থেকে ভাসমান পাথর সংগ্রহের কথা বলে বিভিন্নভাবে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেন। বর্তমানে থাইক্ষ্যং ঝিড়ি থেকে পাথর উত্তোলন করে মেনরোওয়া ও হৈকো খুমীপাড়া এলাকার প্রধান সড়কের পাশে মজুদ করে রেখেছেন। তিনি আরো জানান, অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনকারীরা পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ে বসবাসকারী আদিবাসীদের পানির উৎস হিসেবে খ্যাত বিভিন্ন ঝিরিগুলোকে মরা ঝিরিতে পরিণত করেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, থানচি উপজেলার দেংটিপাড়া ,কানাজিওপাড়া, ও ক্রংক্ষ্যংপাড়ার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বিশাল ঝিরি থাইক্ষ্যং ঝিরি নামে পরিচিত। উক্ত ঝিরিসহ বিভিন্ন স্থানে অবাধে পাথর উত্তোলন চলছে। এসব পাথর আহরণে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমোদন নেই।
থানচি উপজেলার বাসিন্দা রিংইয়ং স্রো জানান, অতিমাত্রায় পাথর উত্তোলনের ফলে পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্রের পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে মানুষের বসবাস অযোগ্য হয়ে পড়েবে। বিনা বাঁধায় ঝিরি ও পাহাড় খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের ফলে এলাকায় খুব শিগগিরই পানি সঙ্কট দেখা দিবে। এমনিতে শুষ্ক মৌসুমে নলকূপ ও রিংওয়েলে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পাহাড়িরা শুষ্ক মৌসুমে তীব্র পানি সঙ্কটে পড়ে।
বলিপাড়ার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ক্য সাউ মারমা জানান, উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্মাণ কাজে লোকাল পাথর ব্যবহার করা নিষেধ। এখানে সিলেটি পাথর ব্যবহার করার কথা থাকলেও অবৈধ উপায়ে উত্তোলিত এসব পাথর বিভিন্ন নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রকৌশলীরা তা দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।
থানচি উপজেলা চেয়ারম্যান ক্য হ্লা চিং মারমা জানান, অবৈধভাবে পাথর আহরণ বন্ধ না করলে এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। ইতোমধ্যে নির্বিচারে পাথর আহরণের ফলে পাহাড়ি ঝিরি ও ছড়ার পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী পানি সঙ্কটে ভুগবে। এ বিষয়ে থানচি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু ব্যবসায়ী জানান, জেলা প্রশাসক থেকে কোনো মতে একটি ঝিরি থেকে পাথর উত্তোলনের অনুমতি মিললেই এলাকার যতো ঝিরি আছে সকল ঝিরি ও পাহাড়ের পাথর উত্তোলন শুরু হয়ে যায়।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘থানচি উপজেলায় পাথর উত্তোলনের কোনো অনুমতি নেই। যেখানে এই অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছে সেখানে আমরা খুব শিগগিরই মোবাইলকোর্ট পরিচালনা করবো। কারো বিরুদ্ধে সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’

