আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিয়ের ছবি যেন প্রত্যেক নতুন দম্পতির কাছেই আলাদা একটা আকর্ষণের বিষয়। বিশেষ এই দিনটাকে স্মরণ রাখতে বিয়ের দিন দম্পতিরা নানা পোজে ছবি তোলেন। বিশেষ দিনটিকে আরো সুন্দরভাবে সাজাতে নানান পোজের সঙ্গে থাকে রাখা হয় সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ। এতে করে ছবিতে যেন একটা নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। আর এসব ছবিতে প্রাণোচ্ছলার কোনো কমতি রাখা হয়না বা পুরনো, ক্ষত-বিক্ষত কোনো কিছুই সেখানে জায়গা পায় না।
সাধারণত আর দশটা দম্পতি বিয়ের দিন আনন্দঘন পরিবেশে অতিথি এবং ফুলেল সাজসজ্জার মধ্যে ছবি তোলেন। ভবিষ্যতে এই দিনটা যেন স্মরণীয় হয়ে থাকে এজন্য আয়োজনের কোনো ত্রুটি থাকে না। ছবির জন্য অনেক সময় অনেক পরিস্থিতি তৈরি করে নেন ফটোগ্রাফাররা। সব কিছুর পেছনে একটাই উদ্দেশ্য। আনন্দের এই দিনের ছবি যেন কোনোভাবেই ম্লান না হয়ে যায়।
কিন্তু এক্ষেত্রে একেবারেই আলাদা নেদা মেহরি (১৮) এবং হাসান ইউসুফ (২৭) দম্পতি। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন তারা। তাদের বিয়েতে কোনো কিছুরই কমতি ছিল না। বিয়ের পোশাক বা আনুষ্ঠানিকতা সব কিছুই ছিল ঠিক ঠাক। তবে ছবি তোলার বিষয়ে তারা অন্যদেরে চেয়ে একেবারেই ভিন্ন পন্থা অবলম্বণ করেছেন। এই দম্পতি সবার চিন্তা ভাবনাকে ছাড়িয়ে গেছেন। তারা নিজেদের ক্ষত-বিক্ষত আর ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরটাকেই তাদের বিয়ের ছবির জন্য নির্বাচন করেছেন। ভালোবাসা যুদ্ধের চেয়ে বড়। এই ধারণাকে সত্যি প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন তারা। আর একারণেই বিধ্বস্ত ভবনের সামনে এবং ভেতরে দাঁড়িয়েই তাদের বিয়ের সবগুলো ছবি তোলা হয়েছে।
সিরিয়ায় চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ ও সহিংসতায় দেশটি একেবারেই লণ্ড-ভণ্ড হয়ে গেছে। দেশটির একটা ভবনও স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। বেশিরভাগ ভবনই ধ্বংস হয়ে গেছে। ওই দম্পতি যে শহরে বাস করে সেই শহরটাও কোনো মতে টিকে আছে। কিন্তু ওই বিধ্বস্ত ভবনগুলোর মাঝেও জোড়ালো ভাবেই টিকে আছে তাদের ভালোবাসা। এমন কিছু পোজেই বিয়ের ছবি তুলেছেন তারা।
নেহরি সাদা পোশাকে আর ইউসুফ ঐতিহ্যবাহী সামরিক পোশাকে বিধ্বস্ত ভবনগুলোর সামনে ছবি তুলেছেন। তাদের এসব ছবি যেন এমনটাই জানান দিচ্ছে, থেমে যাক যুদ্ধ এগিয়ে যাক ভালোবাসা। সবার জন্য নতুন জীবনের স্বপ্ন ছড়িয়ে দিতেই হয়তো ওই যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ভবনগুলোর সামনে দাঁড়িয়ে এসব ছবি তোলা হয়েছে। যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত মানুষগুলোর মনে নববিবাহিত ওই দম্পতি যেন ভালোবাসার একটুকরো স্বপ্ন ছড়িয়ে দিচ্ছেন। কেননা তারা জানেন যুদ্ধ আর মৃত্যু তো জীবনের কাছে খুবই তুচ্ছ।

