ঢাকাFriday , 5 February 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আলোচনা-সমালোচনায় গণজাগরণ মঞ্চের তিন বছর

Link Copied!

gonojagoronনিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লার রায়ে ট্রাইব্যুনালে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি নিয়ে রাজপথে আন্দোলনে নামেন কিছু মুক্তমনা মানুষ। পরে তাদের নিয়েই গঠিত হয় গণজাগরণ মঞ্চ। এরপর গত তিন বছর প্রশংসা আর সমালোচনার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে এর পথচলা। তবে এরই মধ্যে তিন ভাগ হয়ে গেছে এ মঞ্চ। এই তিন ভাগই নিজেদের মূল গণজাগরণ মঞ্চ বলে দাবি করে। তবে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ, তারা প্রত্যেকেই গণজাগরণ মঞ্চ।’
একসাথে পথচলা শুরু করলেও এক ইস্যুতে সবাই ধারাবাহিকভাবে মাঠে নাও থাকতে পারে বলেই শুরুর অনেকেই এখন মঞ্চের সাথে নেই বলে মনে করেন ইমরান। যদিও বের হয়ে যাওয়া গোষ্ঠীগুলোর দাবি, ২০১৩ সালে একাত্ম হওয়ার মূল ইস্যুর বাইরে পথচলা শুরু করা এবং ইমরান এইচ সরকারের স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণেই আর একসাথে থাকা যায়নি।
কাদের মোল্লার ট্রাইব্যুনালের রায়ের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের সুবিধাসহ আইন সংশোধন, জনমানুষের মধ্যে প্রায় ভুলতে বসা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনর্জাগরণসহ বেশকিছু অর্জনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে ২০১৪ সালে এসে গণজাগরণ মঞ্চকে তিন ভাগে বিভক্ত করার চেষ্টা হয়। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারকে ‘অব্যাহতি’ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কামাল পাশা চৌধুরী। আর বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ‘কোথায় থামা উচিত’ সেই জায়গায় দুর্বলতা ছিলো গণজাগরণ মঞ্চের।
২০১৪ থেকেই নেতৃত্ব নিয়ে, কর্মসূচি নিয়ে মনোমালিন্য থেকে পাল্টাপাল্টি মুখোমুখি অবস্থান নেয় মঞ্চে থাকা রাজনৈতিক সংগঠনগুলো। ২০১৪ সালের ৩ এপ্রিল রাতে শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার জন্য দায়ী করা হয় ছাত্রলীগকে। এর পরদিন শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চকে প্রতিবাদ সমাবেশ করতে না দিয়ে লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে এবং ৭ জনকে আটক করা হয়। স্পষ্ট হয় বিভাজন।
এর পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী, জাসদ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ঐক্য ফোরাম ও বাংলাদেশ ছাত্র সমিতির এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে গণজাগরণ মঞ্চ ছাড়ার ঘোষণা আসে।
নৌমন্ত্রীর নেতৃত্বে কামাল পাশার সাংগঠনিক উপস্থিতিতে একটি দল এখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আন্দোলন নামে নতুন সংগঠন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে সরে আসার কারণ জানতে চাইলে এই দলের সংগঠক এফ এম শাহীন বলেন, ‘একেক জনের চেতনার জায়গা একেকরকম।  মুক্তিযুদ্ধকে চেনা জানার জায়গা একেকরকম। আমরা কেন রাস্তায় নেমেছিলাম সেটা স্পষ্ট ছিল। যখন সেই সুনির্দিষ্ট ইস্যুর বাইরের ইস্যু যুক্ত হলো, তখন মূল বিভাজনটা তৈরি হলো।’
তিনি বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় আমাদের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ইমরানের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ফলেই আজ এই রূপ নিয়েছে। আমাদের প্রশ্ন হলো- শুরুতেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বাংলা পরীক্ষা দিতে এসে ইংরেজি অংক পরীক্ষা দেব না। এখনওতো বাংলা পরীক্ষা শেষ হয়নি, তাহলে অন্য ইস্যু ঢুকলো কীভাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘একসময় মনে হয়েছে গণমাধ্যম আমাদের বিভাজনটা উপভোগ্য করে তুলতে চায়। তখন আমরা সরে এসেছি। আজ যে দুইশ যুদ্ধাপরাধীর প্রতীকী বিচারের চেষ্টা হচ্ছে, সেটা আমাদের শক্তিরই ফসল।’
তিন বছরের প্রথম আক্রমনটা আসে হেফাজতের কাছ থেকে। নাস্তিক ব্লগার হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টায় হামলার শিকার হয়ে নিহত হন রাজীব হায়দারসহ সারাদেশে কম করে দশজন কর্মী। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একসময় শাহবাগের জনসমাগম কমতে থাকে। ইমরান এইচ সরকার মনে করেন, একটা চলমান আন্দোলনে সবসময় হাজার হাজার মানুষ মাঠে থাকবে এটা ভাবা ঠিক না। মানুষ জেগেছে, যখন প্রয়োজন হবে প্রতিবাদের আবারও একই রূপ নেবে শাহবাগ।
তিন বছরে ধারাবাহিক সমালোচনা, অস্থিরতা আর প্রশংসার মধ্য দিয়ে শাহবাগে টিকে থাকার বিষয়ে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘এটা মানবিক গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ আন্দোলন। গণমানুষের আন্দোলন হিসেবে প্রসংশা যেমন আছে, তেমনই বিরোধীপক্ষ আক্রমনের লক্ষবস্তুতে পরিণত করেছে। এটা লক্ষ্য করবেন, যে কোনো ধরনের আক্রমণের জবাব আমরা আক্রমণের মধ্য দিয়ে দিইনি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই মৌলবাদীদের আক্রমণ, অপপ্রচারকে গুরুত্ব দিইনি। কারণ সেই অপ্রপ্রচারের মৌলিক ভিত্তি নেই। তেমনিভাবে যারা এই আন্দোলনের স্পিরিটকে ধারণ করে কিন্তু কৌশল নিয়ে ভিন্নমত আছে, তাদের আমরা সব সময়ই আহ্বান জানিয়েছি তাদের কথা বলার জন্য। মনে রাখতে হবে, এটা মানুষের জাগরণের আন্দোলন।
অনেকে চলে গেলেও খুশী কবীর এখনও গণজাগরণ মঞ্চে সক্রিয়, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শাহবাগ এমন একটা প্ল্যাটফর্ম যেখানে সব ধরনের মানুষ আসতে পেরেছে। তরুণদের জন্য, মুক্তচিন্তার মানুষদের জন্য জায়গা। ১৯৭১ সালে যে গণহত্যা ঘটেছিল ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে যে ইতিহাসবিকৃতির চেষ্টা চলছে, তার বিপরীতে রুখে দাঁড়ানোর বিকল্প নেই। এই বিকৃতি থেকে ইতিহাসকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার একটা জায়গা শাহবাগ।’
গণজাগরণ মঞ্চের শুরুতে গণমাধ্যম যে ভূমিকা পালন করেছিলো, সেটা পরবর্তী সময়ে কমেছে। গণমাধ্যম বিশ্লেষক হিসেবে প্রভাষ আমিনের তিন বছরের মূল্যায়ন করতে গিয়ে বলেন, ‘এটি অনেকগুলো মানুষের একত্রিত হয়ে নিছক স্লোগান দেয়া নয়, এটি একটি চেতনার জাগরণ, ক্ষোভের বিস্ফোরণ। গণজাগরণ মঞ্চের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে, হবে। তবে আমি মনে করি, গণজাগরণ মঞ্চ তাদের লক্ষ্যে ষোল আনা সফল। নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং দেশের জন্য ভালোবাসার যে বীজ তারা রোপণ করেছে, তার তুল্য কিছু নেই।’
ব্যর্থতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ব্যর্থতার কথা যদি বলেন, আমার বিবেচনায় কোথায় থামতে হবে, সেটা জানতে না পারাই মঞ্চের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। শুরুতে দলনিরপেক্ষ থাকার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তা পারেনি মঞ্চ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার দেশ’ কেন্দ্রিক একটি মহল এই মহৎ আন্দোলনকে নাস্তিকদের আন্দোলন হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করে। তবে শেষ বিচারে আমি গণজাগরণ মঞ্চকে সফলই বলবো। তাদের যা দায়িত্ব তারা সেটা সঠিকভাবেই পালন করেছে।’